Logo
Logo
×

Advertisement

সুস্থ থাকুন

হজ পালনকারীদের জন্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

Advertisement

Icon

ডা. মো. নাহিদ সিকদার

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হজ পালনকারীদের জন্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

Advertisement

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন। এ বিশাল জনসমাগমে যেমন নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তেমনি অনেকেই হঠাৎ পরিবেশ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অসুস্থতাবোধ করতে পারেন। তাই হজ পালনকারীরা যাতে সুস্থ ও নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন সেজন্য কিছু জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

* যাত্রার আগের প্রস্তুতি

▶ যারা অসুস্থ অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন-ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি রোগ, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্র ও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

▶ সবাই নিয়ম অনুযায়ী টিকা প্রদান করবেন।

▶ যারা সুস্থ আছেন পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিন। কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

▶ প্রয়োজনীয় কিছু মেডিসিন ও ফাস্টএইড সামগ্রী সঙ্গে রাখুন।

▶ মেডিসিন : প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড টেবলেট এবং সিরাপ, র‌্যাবিপ্রাজল, টাইমোনিয়াম মিথাইল স্যালফেট, ডমপেরিডন, ফেক্সোফেনাডিন, খাবার স্যালাইন ইত্যাদি এবং যার যেটা প্রয়োজন।

▶ সার্জিক্যাল সামগ্রী : সার্জিক্যাল গজ, তুলা, রোল ব্যান্ডেজ, মাইক্রোপোর বা সাদা টেপ, পভিডন আয়োডিন তরল এবং মলম, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

* হজের সময় করণীয়

▶ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করুন।

▶ সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া।

▶ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।

▶ ফেস মাস্ক ব্যবহার করা।

▶ হাঁচি, কাশির সময় মুখে মাস্ক না থাকলে টিস্যু/কনুই দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা।

▶ স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ পানি পান করা।

▶ অতিরিক্ত গরমে ছাতা ব্যবহার করা। যাদের ঘাম বেশি হয় পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার স্যালাইন পান করা।

▶ দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীরা

প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন এবং নিয়মমতো ওষুধ সেবন করুন।

▶ ডায়াবেটিস রোগীরা ব্লাড সুগার মাপার মেশিন সঙ্গে রাখুন। যদি সুগার কমা/বাড়ার লক্ষণ (যেমন-হাত পা কাপা, মাথা ঘুরানো, বমি ভাব) প্রকাশ পায় দ্রুত সুগার দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

▶ যদি সুগার মাপার সুযোগ না থাকে এবং এ লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তাহলে দ্রুত চকলেট/খেজুর/মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। তারপর সুগার মেপে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। মনে রাখবেন সুগার কমে বা বেড়ে গেলে যে কোনো কারণেই লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তবে কমে যাওয়াটা বেড়ে যাওয়ার থেকে অনেক বেশি খারাপ। ব্লাইন্ডলি মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। আর যদি সুগার বেড়ে যাওয়ার কারণে খারাপ লেগে থাকে তাহলে অল্প মিষ্টিজাতীয় খাবার আপনার সুগার আরও কিছুটা বাড়াবে এতে অতিদ্রুত আপনার কোনো ক্ষতি হবে না।

▶ হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত ভিড় ও ধকল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

▶ শ্বাসকষ্ট/অ্যাজমার রোগীরা সব সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে দূরে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ইনহেলার সঙ্গে রাখুন, প্রয়োজনে ব্যবহার করুন।

▶ সবাই পায়ের যত্ন নেবেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা-কারণ তাদের পায়ে ক্ষতস্থান তৈরি এবং ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

* প্রয়োজনীয় কিছু সাধারণ ওষুধ

প্রয়োজনে কিছু সাধারণ ওষুধ সেবন করতে পারেন, যেমন-

▶ প্যারাসিটামল : জ্বর/ব্যথানাশক হিসাবে।

▶ অ্যান্টাসিড/র‌্যাবিপ্রাজল : বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নিরাময়ে।

▶ ফেক্সোফেনাডিন : সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি।

▶ টাইমোনিয়াম মিথাইল সালফেট : পেটে ব্যথার জন্য।

▶ ডমপেরিডন : বমি বা বমির ভাব হলে।

▶ খাবার স্যালাইন : পানিশূন্যতা দূর করতে, পাতলা পায়খানা হলে।

* প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল পরামর্শ

▶ শরীরের কোনো অংশ কেটে/ছিলে গেলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে প্রথমেই গজ দিয়ে জায়গাটা চেপে ধরবেন।

▶ পভিডন আয়োডিন তরল দিয়ে জায়গাটা মুছে দিন। মলম ব্যবহার করে গজ দিয়ে ঢেকে মাইক্রোপোর বা সাদা টেপ অথবা রোল ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে দিন।

▶ তারপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

▶ যে কোনো স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সরকারি স্বাস্থ্য টিম প্রস্তুত আছে।

* হজ থেকে ফেরার পর

▶ যদি কোনো অসুস্থতা অনুভব করেন দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনি হজে গিয়েছিলেন তা আপনার চিকিৎসককে অবহিত করুন এবং পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করুন।

▶ পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম গ্রহণ করুন।

▶ হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

লেখক : কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান (সার্জারি), কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা, জসীমউদ্দীন শাখা।

Advertisement

হজ

Advertisement

আরও পড়ুন

স্লিপ ডিস্ক হলে অপারেশন নাকি রিহ্যাবিলিটেশন কোনটি জরুরি

স্লিপ ডিস্ক হলে অপারেশন নাকি রিহ্যাবিলিটেশন কোনটি জরুরি

২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় বদলাতে হবে জীবনযাপন

হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় বদলাতে হবে জীবনযাপন

নিরামিষাশীরা আয়রনের অভাব যেভাবে পূরণ করবে

নিরামিষাশীরা আয়রনের অভাব যেভাবে পূরণ করবে

টনসিল অপারেশনের পরও গলাব্যথা কেন হয়?

টনসিল অপারেশনের পরও গলাব্যথা কেন হয়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম