জান্তার হামলায় আবারও রক্তাক্ত মিয়ানমার
নিহত ৫০ হন্যে হয়ে লাশ খুঁজছেন স্বজনরা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাওর একটি জনবহুল বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। সোমবার দুপুরের এ হামলায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার পরদিন মঙ্গলবার পুড়ে যাওয়া বাজারটিতে হন্যে হয়ে স্বজনদের লাশ খোঁজেন পরিবারের সদস্যরা। অনেক লাশ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী বিমান হামলা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এএফপি।
ভগ্নিপতির লাশ খুঁজছিলেন ৪৯ বছর বয়সী অং চে। তিনি বলেন, ‘মানুষগুলোকে মরতে দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। আমি এটা সহ্য করতে পারছি না।’ হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০ বলে জানানো হয়েছিল। স্থানীয় একটি সহায়তাকারী সংস্থার কর্মী ওয়াই হুন অং মঙ্গলবার বলেন, ‘নিহতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছেছে এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন।’ তবে কিছু লাশ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। স্থানীয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ), যারা ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, এক বিবৃতিতে বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ‘নিরপরাধ পথচারী, বাজারের বিক্রেতা, ক্রেতা এবং পণ্য ওঠানামার শ্রমিক’। হামলার পর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে লাশ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। কিছু লাশ পাতলা প্লাস্টিকের চাদরে ঢাকা ছিল। কিছু বাইরের একটি ছাউনির নিচে কাঠের তৈরি কফিনে রাখা ছিল। অং চে বলেন, ‘আমি জানি না তার লাশ কোথায় খুঁজব এবং কার কাছে সাহায্য চাইব।’ এই বিমান হামলায় বাজারটি এবং এর পাশের একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলে এ বাজারটি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। রাখাইন রাজ্য মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়া অঞ্চলগুলোর একটি। অঞ্চলটি দেশের বাকি অংশ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। ভারতের সঙ্গে নদীপথে বাণিজ্যের কারণে ওই বাজার স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবনধারণের অবলম্বন হয়ে উঠেছিল। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কয়েকটি শহর এখনো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকায় রাশিয়া ও চীনে তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে সামরিক বাহিনী। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে স্কুল, বৌদ্ধ মঠ এবং ধর্মীয় উৎসবেও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান শাখার বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এসব হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (একলেড)-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সু মন বলেন, ‘রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সামরিক বাহিনী মরিয়া।’ তিনি জানান, চলতি মাসে সেখানে সামরিক বাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করেছে, তবে সেটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য এনে দিতে পারেনি’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে রাখাইনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একলেডের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
