Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

পশ্চিমতীরে শতাধিক বসতি স্থাপনকারীদের হামলা

ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর

যুদ্ধের ৩ বছর পর স্যাটেলাইটে গাজার ভয়াবহ চিত্র

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

পশ্চিমতীরের জালুদ গ্রামে সোমবার রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে তারা। এছাড়া ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতেও আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। মঙ্গলবার টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এই তথ্য।

জালুদ গ্রামটি নাবলুসের কাছে অবস্থিত। গত জুলাইয়ে বসতিস্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হয়রানি ও সহিংসতায় তুবাসি পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের হাইকোর্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিবারটিকে নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার দিবাগত রাতে পরিবারটিকে বাড়িতে ফেরানোর জন্য ইসরাইলি বাহিনী সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে এর আগেই গ্রামটিতে তাণ্ডব শুরু করে উগ্রপন্থি বসতিস্থাপনকারীরা। ওই পরিবারের ফিরে আসা ঠেকাতে এ নৃশংস হামলা চালায় তারা। একই রাতে পশ্চিমতীরের মধ্যাঞ্চলের আল-মুগাইয়ির গ্রামেও একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় জানালা দিয়ে একটি পেট্রলবোমা (মলোটভ ককটেল) ছোড়া হয় বলে জানা গেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে জেরুজালেমে সোমবার রাতে কয়েক ডজন ইহুদি ব্যক্তি দুই আরবকে হামলার চেষ্টা করেন বলে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই আরব ব্যক্তি দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং কয়েক ডজন মানুষ তাদের পিছু নিচ্ছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। ইসরাইলি পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জালুদের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন ইসরাইলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উত্তর ও মধ্য পশ্চিম তীরের ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী দুজনকে রাতে আইডিএফ সদস্যরা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার সকালে জেরুজালেমের এক বাসিন্দাকেও সহিংসতায় অংশ

নেওয়ার সন্দেহে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামে দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেওয়া সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় একটি সন্দেহজনক গাড়ি থামানো হয়।

এদিকে ইসরাইলের হামলায় গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা কীভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে তার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গুগল ম্যাপে সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে যুদ্ধ শুরু আগের ছবির তুলনা করে দেখা গেছে, গাজার একের পর এক আবাসিক এলাকা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু প্রায় তিন বছর পর প্রকাশিত এসব ছবিতে গাজার দক্ষিণের রাফাহ থেকে উত্তরের জাবালিয়া পর্যন্ত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ঘরবাড়ি ও স্থাপনার জায়গায় শুধু বালু ও ধ্বংসস্তূপ, আবার কোথাও কৃষিজমি পুড়ে কালো হয়ে গেছে। কয়েক শতাব্দী পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট কেন্দ্র ইউএনওস্যাটের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউএনআরডব্লিউ-এর হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা (সংখ্যায় প্রায় ২ লাখ ভবন) কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ইরানকে ছাড়ের খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

ইরানকে ছাড়ের খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

পশ্চিমতীরে শতাধিক বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর

ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর

ইমরান খানের মুক্তির লড়াইয়ে সোহাইল আফ্রিদি

ইমরান খানের মুক্তির লড়াইয়ে সোহাইল আফ্রিদি

জান্তার হামলায় আবারও রক্তাক্ত মিয়ানমার

জান্তার হামলায় আবারও রক্তাক্ত মিয়ানমার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম