ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা
নিরাশ্রয়ের দুয়ারে প্রাণঘাতী শীত
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় ফিলিস্তিনিরা নজিরবিহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও জোটেনি নিরাপদ আশ্রয়। নামেমাত্র যুদ্ধবিরতি বার বার ভেঙে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ। উপত্যকার অধিকাংশ এলাকা দখল হওয়ায় সংকীর্ণ সৈকতে তাঁবু গেড়ে বাস করেন লাখো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। একদা তাদের সুন্দর, সাজানো-গোছানো ঘর ছিল। এখন কিছুই নেই। এ অনিশ্চিত জীবনের মধ্যেই দুয়ারে কড়া নাড়ছে প্রাণঘাতী শীত। ছেঁড়া তাঁবুর ফাঁক গলে ঢুকবে বৃষ্টি ও হিমেল বাতাস; মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ; হাতে নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা চিকিৎসাসামগ্রী।
রোববার টার্ক টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ক্ষত শুকানোর আগেই প্রকৃতির কঠিন পরীক্ষার মুখে গাজার নিরাশ্রয় পরিবারগুলো। শীতের ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা পেতে তাঁবু, কম্বল, খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। তাদের আশঙ্কা-পর্যাপ্ত আশ্রয় ও ত্রাণ না পেলে শীতের বৃষ্টি, ঠান্ডা ও প্রবল বাতাসে হাজারো মানুষ আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বেন।
শনিবার খান ইউনিসের ফাশ ফার্শ এলাকায় কয়েক ডজন বাস্তুচ্যুত মানুষ বিক্ষোভ করেন। ইসরাইলের অবরোধের মধ্যে আশ্রয়ের সংকট ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাদের দ্রুত তাঁবু ও মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের আহ্বান জানান তারা। বিক্ষোভকারীদের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের তাঁবুগুলো ছেঁড়া, পেটও খালি। আমাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবেন না।’ ফাশ ফার্শ এলাকার বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে বর্তমানে আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। ফাশ ফার্শ এলাকার শিবিরগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা আহমেদ হাসান আল-নাজ্জার জানান, ওই এলাকায় ৩৫টি বাস্তুচ্যুত শিবিরে প্রায় ৬ হাজার পরিবার বসবাস করছে। এসব শিবিরে মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলের সাম্প্র্রতিক হামলায় মা ও মেয়ের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে সেখানকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যেও। নিহত মায়সা আবু দাউদ ও তার মেয়ে মেরি আল-নাজ্জার শনিবার রিমাল এলাকার একটি ভবনে চালানো হামলায় নিহত হন। এছাড়া আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনার পর ফিলিস্তিনে খ্রিস্টানদের নিপীড়ন, বৈষম্য ও ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চ। শনিবার ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রামজি খৌরিকে পাঠানো এক চিঠিতে সার্বিয়ান প্যাট্রিয়ার্ক পোর্ফিরিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে খ্রিস্টানরা এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিস্টানদের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় স্থান, শিক্ষা ও উপাসনায় বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
পশ্চিমতীরে কৃষকদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা :
পশ্চিমতীরে জলপাই সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। শনিবার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫৫টি জলপাই গাছ। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় জলপাই সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর এসব হামলা চালানো হয়। নাবলুসের উত্তরে সেবাস্তিয়া এলাকায় জলপাই সংগ্রহের সময় পাঁচ ফিলিস্তিনিকে মারধর করা হয়েছে। নাবলুসের দক্ষিণে আসিরা আল-কিবলিয়ায় হামলায় আরও তিনজন আহত হন। কাছের বেইত ইমরিন এলাকায় মরিচের স্প্রে ছুড়ে আরও দুজনকে আহত করা হয়।
