কট্টর ডানদের ক্ষমতার বিস্তার
ইউরোপে অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা
বিভিন্ন সরকার অভিবাসন ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে
Advertisement
হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইউরোপের রাজনীতিতে অভিবাসন এখন আর শুধু সীমান্তের প্রশ্ন নয়। চাকরি, নাগরিকত্ব, পরিবার নিয়ে বসবাস, আশ্রয় এবং সামাজিক সুবিধা নিয়েও কঠোরতার দাবি বাড়ছে। সেখানে ঘটছে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান। তাদের কণ্ঠে অভিবাসন বিরোধীতার সুর। এ প্রেক্ষাপটে মহাদেশটিতে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, পর্তুগাল, স্পেন, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, চেকিয়া ও গ্রিসে ডানপন্থি দলগুলোর প্রভাব কমবেশি দৃশ্যমান। কোথাও তারা সরকারে, কোথাও জোটের অংশ, আবার কোথাও বিরোধী দল হয়ে নীতিনির্ধারণে চাপ তৈরি করছে। ফ্রান্সে ন্যাশনাল র?্যালি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে নির্বাচনি রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছে। ৬ অক্টোবর ২০২৬ দলটি ২০২৭ সালের বিকল্প বাজেট প্রকাশ করে।
ল্য মোঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের একজন কর্মী নিয়োগে বছরে এক হাজার ইউরো অতিরিক্ত কর বসানোর প্রস্তাব করেছে দলটি। চাকরি, আবাসন ও সামাজিক সুবিধায় ফরাসিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও রয়েছে। ৭ অক্টোবর মেরিন ল্য পেন বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হলে বিদেশি কর্মীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। এগুলো এখনো দলের রাজনৈতিক প্রস্তাব, ফরাসি আইন নয়। জার্মানিতেও চাপটা স্পষ্ট। এএফডি ৭ অক্টোবর পার্লামেন্টে দেওয়া প্রস্তাবে নাগরিকত্বের জন্য অন্তত ১০ বছর বসবাসের শর্ত, নিয়মিত দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ বন্ধ এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবার পুনর্মিলন সীমিত করার দাবি জানিয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যাবাসন আরও জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। জার্মান পার্লামেন্টের নথিতে এগুলো এএফডির প্রস্তাব হিসাবেই উল্লেখ আছে, সরকারি আইন হিসাবে নয়। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ এনেছে। সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রাথমিক শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার বিধান করা হয়েছে। তবে ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা দীর্ঘদিন দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা অনেক শিক্ষার্থী এ হিসাবের বাইরে থাকবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবে এর প্রভাব পড়তে পারে খুব অল্পসংখ্যক শিশুর ওপর। সুইডেনে পরিবর্তনটি সরাসরি শ্রমবাজারে। ১ জুন থেকে সাধারণভাবে নতুন শ্রম অভিবাসীদের জন্য বেতনের শর্ত করা হয়েছে দেশের মধ্যম বেতনের ৯০ শতাংশ। সরকারি হিসাবে তা মাসে ৩৩ হাজার ৩৯০ ক্রোনার। কিছু ঘাটতিপূর্ণ পেশা ও কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। সরকার ও সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পরিবার পুনর্মিলনের নিয়মও কঠোর করার পরিকল্পনা করেছে। পর্তুগালেও সরকার অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিধান শক্ত করতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে।
মার্চে অনুমোদিত খসড়ায় আটক রাখার সর্বোচ্চ সময় বাড়ানো এবং আশ্রয়ের আবেদন করলেই ফেরত প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ না হওয়ার মতো পরিবর্তনের কথা রয়েছে। বিষয়টি এখন সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ। এর বাইরে অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, চেকিয়া ও গ্রিসেও সীমান্ত, আশ্রয় এবং অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। গ্রিস সম্প্রতি বড় ধরনের আগমন ঘটলে সাময়িকভাবে আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত রাখার সুযোগ চেয়েছে।
