Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

মোদি যুগের শেষের শুরু

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

২০১১ সালে দিল্লি ছিল সেসব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, যা তিন বছর পর মনমোহন সিং সরকারের পতনের পথ প্রশস্ত করে। ১৫ বছর পর ভারতের রাজধানী শহরটি আবারও বিক্ষোভে উত্তাল। এ বিক্ষোভ কী একইভাবে ২০২৯ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কোনো জোরালো পরিস্থিতি তৈরি করবে? ২০১১ ও ২০২৬ সালের পরিস্থিতির মধ্যে বেশকিছু জোরালো মিল রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য স্ক্রলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের এপ্রিলে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের পর রামলীলা ময়দানে দুদফায় গণবিক্ষোভ হয়েছিল-প্রথমটি জুনে ও দ্বিতীয়টি আগস্ট মাসে। এ বছর জুন মাসে তরুণরা যন্তরমন্তর দখলে নেওয়ার মাত্র দুমাসের মধ্যেই বিক্ষোভের দ্বিতীয় ঢেউ উঠতে শুরু করেছে; এমনকি এ সপ্তাহে পুলিশ বিরোধী দলের নেতাদেরও সেই বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে।

২০১১-এর আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল ‘দুর্নীতি’। আর ২০২৬-এর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘কারচুপি’-তা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নির্বাচনিব্যবস্থা যাই হোক না কেন। যন্তরমন্তরে এ বছরের গ্রীষ্মকালীন বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘটেছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে বিপুলসংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নির্দিষ্ট কারণগুলো বাদ দিলেও যখন কোনো বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ পুলিশের লাঠিপেটা ও আটকের ঝুঁকি নিয়েও শামিল হন, তখন তা সাধারণত গভীর মোহভঙ্গের লক্ষণ-যাকে রাজনৈতিক পরিভাষায় প্রায়শই ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনঅসন্তোষ বলা হয়ে থাকে। মনমোহন সিং তার দ্বিতীয় মেয়াদে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদি অবশ্য তা সামাল দিয়ে তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হতে পেরেছিলেন-আংশিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে এনে এবং আংশিকভাবে বিভাজনমূলক রাজনীতির আশ্রয় নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতিই এখন তার পিছু ধাওয়া করছে।

এ বছর তার সরকারকে ক্রমাগত জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, স্থবির হয়ে থাকা মজুরি, ইথানল মিশ্রণ নীতি, ইউপিআই-এর ওপর মাশুল এবং এখন এসআইআর-এর মতো বিষয়গুলো কেন্দ্র করে এ ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এর ওপর বাড়তি বিপদ হিসাবে যুক্ত হয়েছে গ্রামাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি, যা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত এক দশকে সরকারের হাতে গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ বা ‘মিডিয়া ক্যাপচার’-এর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি নির্দিষ্ট দলের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ভারতীয় রাষ্ট্রকাঠামোকেই নতুন করে সাজানো হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কেবল অন্য সব দলের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বিশাল এক তহবিলই গড়ে তোলেনি; বরং তদন্ত সংস্থাগুলোর বেপরোয়া ব্যবহার এবং শক্তির নিরন্তর প্রদর্শনের মাধ্যমে মোদি সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ওপর নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য গঠিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এখন সরকারের অনুগত হয়ে পড়েছে।

এর একটি উদাহরণ হলো-২০১১ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় সুপ্রিমকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিল। অথচ ২০২৬ সালে যন্তরমন্তরের কাছে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টি আদালতের নজরে আনার জন্য করা আবেদনও কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এক অদ্ভুত পরিহাসের বিষয় হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলনকেই আরও জোরদার করছে। বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের একতরফা ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ এক অস্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হচ্ছে, যা দিল্লির কর্মকর্তাদের সারা দেশের ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপের অভূতপূর্ব ক্ষমতা দেয়। এই প্রক্রিয়াকে রুখতে সুপ্রিমকোর্টের ব্যর্থতাই এবার মানুষকে রাজপথে নামিয়ে এনেছে। রাজপথের এই বিক্ষোভ কী আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং আরও বেশিসংখ্যক ভারতীয়কে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে? বিরোধী দলগুলো কী ২০১৪ সালে বিজেপির মতো জনগণের এ ক্ষোভ ভোটকেন্দ্রে কাজে লাগাতে পারবে? ২০১১ সাল থেকেই কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোটের পতনের সূচনা হয়েছিল। যদিও বর্তমান ভারতের সঙ্গে সে সময়ের তুলনা করা কঠিন, তবুও মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক-২০২৬ সাল কী তবে মোদি যুগের সমাপ্তির শুরু?

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মোদি যুগের শেষের শুরু

মোদি যুগের শেষের শুরু

ভারতে জেন-জির তিন আইকন

ভারতে জেন-জির তিন আইকন

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচার হবে

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচার হবে

কট্টর ডানদের ক্ষমতার বিস্তার ইউরোপে অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা

ইউরোপে অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম