২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পারমাণবিক যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর ব্যবহার ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন এক মূল্যায়নে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন। মানবস্বাস্থ্যের জন্য আগামী ৭৫ বছরে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে-এমন ১৭টি প্রধান হুমকিও চিহ্নিত করেছেন কমিশনের সদস্যরা।
এসব হুমকির মধ্যে রয়েছে-পারমাণবিক সংঘাত, এআইয়ের অপব্যবহার, জলবায়ু সংকট, বায়ুদূষণ, শিশুদের অপুষ্টি এবং ধনী দেশগুলোর বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুমকিগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই একটি ঝুঁকি থেকে অন্যটি আলাদা করে মোকাবিলা করার সুযোগ সীমিত। তবে প্রতিটি হুমকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। কমিশনটি বিভিন্ন হুমকির কারণে মানুষের কত বছরের সুস্থ জীবন হারিয়ে যেতে পারে, তা মডেলিংয়ের মাধ্যমে হিসাব করেছে। রোগ, প্রতিবন্ধিতা কিংবা অকালমৃত্যুর কারণে সুস্থ জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সময় পরিমাপের এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ারস’ (ডালিস)। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রতিটি হুমকির কারণে কী পরিমাণ স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে, তা নিরূপণ করেই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহার (বিশেষ করে জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে এর ব্যবহার) এবং পারমাণবিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এসব বিপর্যয়ের বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম। তবে সেগুলো ঘটলে পরিণতি হতে পারে মানবজাতির বিলুপ্তি। মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, এমন আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে কমিশন। তালিকায় রয়েছে-বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠা, শিশুদের অপুষ্টি, জলবায়ু বিপর্যয়, প্রচলিত যুদ্ধ ও সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চরক্তচাপ, আয়বৈষম্য, শিক্ষার নিুমান, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মহামারি, স্থূলতা, দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্য, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর বার্ধক্যকেও বড় হুমকি।
