Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

মহাবিশ্বের শুরুর সময় নিয়ে নতুন তথ্য

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মহাবিস্ফোরণের মাত্র ৫০ কোটি বছর পর যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল বর্তমান বয়সের মাত্র ৩ শতাংশ, তখনই প্রথম দিকের কিছু নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ আলো ছড়াতে শুরু করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সাধারণত ধারণা করতেন যে, এ নবীন গ্যালাক্সিগুলোর চারপাশের গ্যাস ছিল প্রায় বিশুদ্ধ; অর্থাৎ এতে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামই ছিল। নতুন সব প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই ধারণাটি হয়তো অসম্পূর্ণ। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুরুর দিকের গ্যালাক্সিগুলো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই কার্বন ও অক্সিজেনের মতো ভারী মৌলগুলোকে তাদের চারপাশের মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগ ও স্টুয়ার্ড অবজারভেটরির পোস্টডক্টরাল গবেষক ইয়ংদা ঝু বলেন, ‘আমরা দেখেছি, মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে খুব শুরুর দিকেই গ্যালাক্সিগুলো থেকে ভারী মৌলগুলো বেরিয়ে আসছিল। গ্যালাক্সিগুলো কেবল এ মৌলগুলো তৈরিই করছিল না, বরং সেগুলো ছড়িয়েও দিচ্ছিল। ফলে সম্ভবত অন্য গ্যালাক্সিগুলোতেও এসব মৌলের বীজ ছড়িয়ে পড়ে।’

মহাবিশ্বে যেভাবে ভারী মৌল তৈরি করল : শুরুর দিকের মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছাড়া অন্য কিছুর উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য; পর্যায় সারণির শীর্ষে থাকা এই দুটি মৌলই ছিল সবচেয়ে সরল প্রকৃতির। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যখন এসব পদার্থ ঘন মেঘের আকার ধারণ করল, তখন নক্ষত্র গঠিত হতে শুরু করল। এসব নক্ষত্রের অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে নিউক্লিয়ার ফিউশন এবং অন্যান্য বিক্রিয়া সংঘটিত হতো, যা কার্বন ও অক্সিজেনের মতো ভারী মৌলগুলো তৈরি করত। নক্ষত্রগুলোর আয়ুষ্কাল যখন শেষ হয়ে আসত-যার মধ্যে কিছু নক্ষত্র সুপারনোভা হিসাবে বিস্ফোরিত হতো- তখন সেগুলো সেই মৌলগুলোকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিত। পরবর্তী সময়ে সেই পদার্থগুলো নতুন প্রজন্মের নক্ষত্র ও গ্রহের অংশ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান গঠনে ভূমিকা রাখে।

মানুষের শরীরের কার্বন এবং আমরা যে অক্সিজেন গ্রহণ করি-উভয়ই তৈরি হয়েছিল আগের প্রজন্মের নক্ষত্রগুলোর অভ্যন্তরে।

১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ

গবেষক ইয়ংদা ঝু ও তার সহকর্মীরা এমন তিনটি অত্যন্ত দূরবর্তী গ্যালাক্সির ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন, যেগুলোর আলো ১ হাজার ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে ভ্রমণ করে এসেছে। এ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যালাক্সিগুলোকে এমন অবস্থায় দেখা গেছে, যেমনটা তারা বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৫০ কোটি বছর পর- অর্থাৎ ইপক অব রি-আয়োনাইজেশন বা পুনঃ-আয়নায়ন যুগে ছিল।

এ যুগে প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলো নিজেদের মধ্যবর্তী হাইড্রোজেন গ্যাসকে আয়নায়িত করার মাধ্যমে মহাবিশ্বের রূপ পরিবর্তন করে। সেই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পুনঃ-আয়নায়ন প্রক্রিয়াটি এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি মহাকাশের মধ্য দিয়ে আরও অবাধে চলাচল করতে সক্ষম হয়, যা মহাবিশ্বের মহাজাগতিক ‘অন্ধকার যুগ’-এর অবসান ঘটাতে সহায়তা করে।

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তার ইনফ্রারেড ক্ষমতার কারণে এ পর্যবেক্ষণগুলো সম্ভব করেছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ১ হাজার ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় আগের গ্যালাক্সিগুলোকে অধ্যয়ন করার সুযোগ করে দেয়। প্রায় ৩০ ঘণ্টার এক্সপোজার সময় থেকে সংগৃহীত আলো গবেষণা দলটিকে দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর বর্ণালিতে অত্যন্ত ক্ষীণ শোষণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে সাহায্য করে। সূত্র : সাইন্স ডেইলি

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ইউক্রেনে ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি

ইউক্রেনে ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি

দিল্লির গণ-আটকে নানা প্রশ্ন

দিল্লির গণ-আটকে নানা প্রশ্ন

মহাবিশ্বের শুরুর সময় নিয়ে নতুন তথ্য

মহাবিশ্বের শুরুর সময় নিয়ে নতুন তথ্য

‘নাজা’ নিয়ে নেতানিয়াহুর ক্ষোভ চান তদন্ত

‘নাজা’ নিয়ে নেতানিয়াহুর ক্ষোভ চান তদন্ত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম