Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

দিল্লির গণ-আটকে নানা প্রশ্ন

নিজ বাড়ি থেকেও আটক হন অনেকে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দিল্লির উত্তরাঞ্চলীয় প্রান্তের এলাকা বুরারিতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন ৪০ বছর বয়সী অভিষেক। শনিবার ভোরের দিকে দিল্লি পুলিশ তাকে ফোন করে। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘শুধু নিচে নেমে আসুন, আমাদের কথা বলা দরকার।’

এই ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীর বাড়িটি ‘অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নস’-এর স্থানীয় কার্যালয় হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। সংগঠনটি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) লিবারেশনের সঙ্গে যুক্ত। পরদিন সকালে ফোন করতে বলে তিনি সে যাত্রায় পুলিশকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করতে তার বাড়ির দরজায় হাজির হন। অভিষেক বলেন, ‘তারা আমাকে কোনো কারণ জানাননি বা কোনো আইনি নথিপত্রও দেননি। তারা বারবার জানতে চাইছিলেন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে কতজন লোক আসছে। তাদের কাছে অন্য ইউনিয়নের কর্মীদের তালিকা ছিল। তারা তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।’

এই কর্মীকে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এমন ভোগান্তির শিকার কেবল তিনিই হননি। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকা শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসাবে প্রায় ১,০০০ মানুষকে আটক করা হয়েছিল। শনিবার রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টার দায়ে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়; তাদের বাইরেও আরও অনেককে আটক করা হয়েছিল।

আইনজীবীরা স্ক্রলকে জানান, এই আটক প্রক্রিয়া ছিল বেআইনি। তারা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, বিক্ষোভ দমানোর জন্য পুলিশ আইনের তোয়াক্কা না করেই কাজ করেছে। শনিবার যন্তর মন্তরে (যেখানে জমায়েত নিষিদ্ধ ছিল) সমাবেশ করার কোনো চেষ্টাই তারা করেননি, অথচ সেখান থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও তাদের যেভাবে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ নয়া দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-র ১৬৩ ধারা জারি করে। এ আইন পুলিশকে বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে মানুষের জমায়েত সীমিত করার জরুরি ক্ষমতা দেয়। অথচ, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী অভিষেককে আটক করা হয় বুরারি এলাকা থেকে, যা নয়া দিল্লি জেলার অন্তর্ভুক্তই নয়। তাছাড়া, আটক করার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন; কোনো বেআইনি জমায়েতে অংশ নিচ্ছিলেন না। তাকে প্রথমে স্থানীয় থানায় এবং পরে বুরারি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তাকেও আটকে রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিষেকের অভিযোগ, তাকে কেবল বেআইনিভাবেই আটক করাই হয়নি, বরং পুলিশের হাতে দুর্ব্যবহারেরও শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতিটা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। অনেককে মারধর করা হয়েছে। তাদের কোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। এমনকি খাবার বা জলও দেওয়া হয়নি।’ সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ রেবেকা জন মনে করেন, অভিষেকের আটকের ঘটনাটি ‘কোনোভাবেই আইনসম্মত ছিল না’।

ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার ক্ষেত্রে ঠিক এ পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছিল। তাদেরকে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতরে আটক করে পরদিন মুক্তি দেওয়া হয়। আইনজীবী রেবেকা বলেন, ‘শনিবারের অনেক ঘটনায় পুলিশ আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। তাদের কার্যকলাপ ছিল স্পষ্টতই বেআইনি। আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা আইনের আড়ালে থেকে এমন সব কূটকৌশল অবলম্বন করেছে, যার উদ্দেশ্য ছিল আইনের মূল ভাষা ও চেতনাকে নস্যাৎ করা।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ইউক্রেনে ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি

ইউক্রেনে ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি

দিল্লির গণ-আটকে নানা প্রশ্ন

দিল্লির গণ-আটকে নানা প্রশ্ন

মহাবিশ্বের শুরুর সময় নিয়ে নতুন তথ্য

মহাবিশ্বের শুরুর সময় নিয়ে নতুন তথ্য

‘নাজা’ নিয়ে নেতানিয়াহুর ক্ষোভ চান তদন্ত

‘নাজা’ নিয়ে নেতানিয়াহুর ক্ষোভ চান তদন্ত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম