Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

সাক্ষাৎকার

দলদাসত্ব বন্ধ না হলে আমলাতন্ত্রের জঞ্জাল সরানো অসম্ভব: মাহবুব কবির মিলন

Advertisement

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দলদাসত্ব বন্ধ না হলে আমলাতন্ত্রের জঞ্জাল সরানো অসম্ভব: মাহবুব কবির মিলন

Advertisement

মাহবুব কবির মিলন বাংলাদেশের একজন আলোচিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান ও জনবান্ধব উদ্যোগের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পান ও প্রশংসিত হন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কারমূলক বিষয়ে পরামর্শমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ। সঙ্গে ছিলেন খালেদ বিন আনিস

যুগান্তর : নির্বাচনপরবর্তী জনপ্রশাসন কোন কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে মনে করেন?

মাহবুব কবির মিলন : ধন্যবাদ। আসলে আমলাতন্ত্র বিষয়টি কিন্তু খুব জটিল। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আর আমলাতন্ত্রের যে সমস্যাগুলো, যেটা অনেক উপদেষ্টা মহোদয় বলছেন বা আমরা যা শুনছি... আসলে এটা একটা সম্পর্কের বিষয়। উপদেষ্টা বা মন্ত্রী যারা বসবেন, যারা মাথা হবেন একটা প্রশাসনের বা মন্ত্রণালয়ের-তার ক্ষমতা, তো যে কথাটা আমরা বলে থাকি, একজন মন্ত্রীর ওজন কতটা হবে? তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন? তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, তিনি কতটা ওন করবেন তার নিজস্ব মন্ত্রণালয়কে-এটা একটা বড় ফ্যাক্টর। সরকার গঠনের সময়ই কিন্তু এটা চিন্তা করা উচিত। ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য আমার একটা পরামর্শ থাকবে, সেটা হচ্ছে, এমন ব্যক্তি আমাদের দরকার-সেটা সচিব হোক বা মন্ত্রী হোক-তাকে হতে হবে এমন এক ব্যক্তি, তার ওজন এমন হতে হবে বা তার গ্রহণযোগ্যতা এমন হতে হবে, যিনি বসার সঙ্গে সঙ্গেই পরদিন থেকেই একটা থ্রাস্ট (Thrust) বা একটা ভূমিকম্প তৈরি হবে তার মন্ত্রণালয়ে এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোতে। একটা ব্যাপার আছে, এসব ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে পার্থক্য হয়। আমরা বলি না যে, অমুক উপদেষ্টা হলে ভালো হতো এই জায়গায়? এটা কেন আমরা বলি?

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। সিলেটের ডিসি সরোয়ার। তিনি র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। সিলেটে যাওয়ার পরে এত ফোকাসড উনি কেন হলেন? সবাই তার প্রতিটি কাজের প্রশংসা করেছেন। জেলা প্রশাসক কিন্তু আরও আছেন। আমি বলছি না যে, একমাত্র কাজের ব্যক্তি হলেন সরোয়ার। আমরা ধরে নিচ্ছি সব জেলা প্রশাসকই সৎ। সব জেলা প্রশাসক সৎ হলেও ৬৪টি জেলাতেই কি একই রকম কাজ হয়? উন্নয়ন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা-না, কখনো এটা হতে পারে না। তাহলে মানুষে মানুষে পার্থক্য হয়। এটা আমাদের অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি এই পার্থক্যটাকেই হাইলাইট করতে চাই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য। যাদের যেখানে বসানো হবে, তাদের ওজন যেন থাকে, তাদের যেন গ্রহণযোগ্যতা থাকে এবং সবচেয়ে বড় জিনিস-অতি ভালো, অতি ভদ্র, অতি সজ্জন, অতি সৎব্যক্তি দিয়েও আমাদের এ সমাজে, দেশে কাজ হবে না। ২০ কোটি মানুষকে ভালো করা যাবে না, যদি তিনি ম্যাসাকার (Massacre) না করতে পারেন। দুঃখিত, এক্ষেত্রে আমি একটা নেগেটিভ শব্দ বললাম; কিন্তু তাকে ম্যাসাকার নামাতে হবে এবং ম্যাসাকার করার মতো লোক হতে হবে। শুধু সৎ হলে হবে না। তার শক্ত মেরুদণ্ড থাকতে হবে। তার গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। উনি যেদিন চেয়ারে বসবেন, সেদিন যদি ওই মন্ত্রণালয় বা তার দপ্তর-অধিদপ্তরগুলোতে যদি একটা ভূমিকম্প তৈরি করতে না পারেন, তাহলে বুঝবেন, উনি ব্যর্থ হয়ে যাবেন। উনি পারবেন না।

যুগান্তর : আপনি তো সরকারের একজন আমলা ছিলেন। আমলাতান্ত্রিক যে জটিলতাগুলোর কথা আমরা বিভিন্ন সময় শুনি, তা কী কী কারণে তৈরি হয়? যেমন এ সরকার জনপ্রশাসনের সংস্কার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বা হয়েছে। এ সময় নানাবিধ আন্দোলন তৈরি হয়েছে।

মাহবুব কবির মিলন : সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা রয়েছেন, প্রত্যেককে তার নিজ দায়িত্বকে ওন করতে হবে। আমরা ওন করি না। আমাদের সচিব সাহেবরা বা আমি সব ক্যাডারের কর্মকর্তার কথাই যদি ধরি-তারা যদি ইনফরমেটিভ না হন, তাহলে উপদেষ্টাই বলেন, মন্ত্রী বলেন কিংবা সচিবই বলেন, ব্যর্থ হতে বাধ্য। তার দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকতে হবে, ডিপার্টমেন্টকে ওন করতে হবে, শক্ত মেরুদণ্ড থাকতে হবে এবং ইনফরমেটিভ হতে হবে। তার দপ্তরের চুল পরিমাণ তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে, সব বিষয়ে জানতে হবে। যদি তা না হয়, উনি কাজ করতে পারবেন না।

আর একটা বড় জিনিস হচ্ছে-মেরিটোক্রেসি (Meritocracy) যদি আমলাতন্ত্রে চালু না হয়। আমি যদি বুঝে যাই, আমাকে আমার পদোন্নতির জন্য, আমার একটা ভালো পোস্টিংয়ের জন্য, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য, এক্সটেনশনের জন্য আমাকে দলদাস হতে হবে-এইটা যদি সরকারি কর্মকর্তারা বুঝে যায়, আমলাতন্ত্রে যদি এটা চালু হয়ে যায়-জাস্ট শেষ! কারও ক্ষমতা নেই, কোনো মন্ত্রীর ক্ষমতা নেই, কোনো সরকারের ক্ষমতা নেই-সেই দেশকে বুস্ট আপ করে বা আমলাতন্ত্রকে বুস্ট আপ করে।

আবার রাজনীতিবিদরা-সরকার যদি মনে করে, আমার ক্ষমতায় থাকার জন্য আমলাদের দরকার-জাস্ট ফিনিশ! সব শেষ! এটা কিন্তু দ্বিপাক্ষিক একটা ব্যাপার। তারা যদি মনে করেন, আমার ক্ষমতার জন্য তাদের দরকার। রাজনীতির জন্য সরকার চালানোর জন্য আমলাতন্ত্রের দরকার ১০০ পারসেন্ট, কিন্তু সেটা ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু কাজের জন্য হবে সম্পর্কটা। যখনই এই যে গিভ অ্যান্ড টেক (Give and take) থাকবে উভয়... বোথ দ্য পার্টিস (Both the parties) ফিনিশ! দেশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। কারও ক্ষমতা নেই এ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, প্রশাসনকে সঠিকভাবে চালানোর কোনো সরকারের ক্ষমতা থাকবে না। এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার।

যুগান্তর : দলীয় আনুগত্যের বিষয়টি কতটা ভয়াবহ? উত্তরণের উপায় কী?

মাহবুব কবির মিলন : যারা একেবারে নবিশ-পাঁচ-সাত বছর হয়েছে, কর্মকর্তারা যারা জয়েন করেছেন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে-তারা বলেন, আমার সঙ্গে তো যোগাযোগ হয়, তারা বলেন-আমি এটা বহুবার লিখেছি যে, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সাপোজড যদি আমি আমলার উদাহরণ দেই বা একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি-তিনি যদি বলেন যে, স্যার আমার ব্যাচের কারা ডিসি হবেন এখন থেকে বলে দিতে পারি। এটা কিন্তু একটা বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। কারা ডিসি হবেন, তিনি চাকরিতে জয়েন করে দুই বছর পর তিন বছর, চার বছর পর কীভাবে বলতে পারছেন?

আর ডিসি হওয়ার পরে বা উপসচিব হওয়ার পরে সেই ছেলেমেয়েরা যদি বলে আমার ব্যাচের কারা কারা জয়েন্ট সেক্রেটারি হবে, কারা অ্যাডিশনাল হবে বা অ্যাডিশনাল হওয়ার পরে কারা সচিব হবে-এটা যদি আগে থেকে বলে দেওয়া যায়, তাহলে তো সব শেষ! ঠিক নেগেটিভ পারসপেক্টিভে ধরেন। কীভাবে বলে দেওয়া যাচ্ছে? কারণ ওই যে ঘোড়দৌড়-দলদাসের ঘোড়দৌড়। সবার পক্ষে দলদাস হওয়া সম্ভব নয়, কোনোদিন সম্ভব নয়। সবার মাথা কেনা কোনোদিন সম্ভব নয়। এখন যে মাথা বিক্রি করবে, সে যদি বলে যে এছাড়া আমার ভবিষ্যৎ শেষ, ভবিষ্যৎ ফকফকা বা পরিষ্কার-কারণ অপররা মাথা বিক্রি করছে, দলদাস হয়ে যাচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের প্রমোশন হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের উন্নতি হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। সততার কোনো দাম পাওয়া যাচ্ছে না, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু তাই তো হয়েছে।

এই যে আমি ডিসি সারোয়ার সাহেবের কথা বলছি। সে ছিল এক বছরের পানিশমেন্টে... আমিও তো পানিশমেন্ট পেয়েছি। আমার কথা বাদ দেন, তাকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছিল, তিরস্কার করা হয়েছিল এবং এক বছরের প্রমোশন বন্ধ ছিল বিগত সরকারের আমলে। কেন? সে বলেছিল-এই দেশে দুর্নীতি করা সহজ, দুর্নীতি পুরস্কারযোগ্য। অর্থাৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা এখানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুধু এই দুইটা সেন্টেন্সের কারণে তাকে তিরস্কার দেওয়া হয়েছিল এবং এক বছরের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ছিল বিগত সরকারের আমলে। এই যে সংস্কৃতি-এই সংস্কৃতি যদি ফিরে আসে বা এই সংস্কৃতি যদি থেকে থাকে, আমলাতন্ত্র কোনোদিন ঠিক হবে না। কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব না এ জঞ্জাল সরানো।

যুগান্তর : উত্তরণের উপায় কী?

মাহবুব কবির মিলন : আমলাতন্ত্র বা প্রশাসনকে বুস্ট আপ করার জন্য, এটাকে মানুষের কল্যাণে এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং যথাযথভাবে আমলাতন্ত্রকে ব্যবহার করার জন্য এ ক্ষতগুলো-দলদাসত্ব, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বা ভালো পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে লবিং বা তদবির এবং দুর্নীতি-এগুলো যদি বন্ধ না হয় এবং মেরিটোক্রেসি বা মেধার যদি মূল্যায়ন না হয়, আমাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে। এ ক্ষতগুলো কিন্তু যুগ যুগ ধরে-বিগত ১৬ বছর নয়, যুগ যুগ ধরে এ জিনিসগুলো আমাদের মধ্যে প্রোথিত হয়ে গেছে। এ সরকার আসাতে আমাদের একটা বিরাট সুযোগ এসেছিল-এই রিফর্ম করার। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো কি খুব কঠিন কাজ? আমি তো মনে করি, এগুলো এক কলমের খোঁচায় সম্ভব। কেন কলমের খোঁচায় সম্ভব? এখন যারা আছেন, তারা কি কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সময় বা নিয়োগ দেওয়ার সময় বা পোস্টিং দেওয়ার সময় কারও চেহারা দেখবেন? নাকি সেই ব্যক্তির দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ড দেখবেন? আপনি তো দলনিরপেক্ষ সরকার। আপনি তো অন্তর্বর্তী সরকার। আপনি কেন এগুলো দেখবেন? আপনি দেখবেন তার এসিআর (ACR), আপনি দেখবেন তার ট্র্যাক রেকর্ড। মানুষটা কতটুকু দক্ষ, মানুষটা কতটুকু সাহসী, মানুষটা কতটুকু সৎ-এই তিনটা জিনিসের যদি কম্বিনেশন না থাকে, তাকে অন্তত ভাইটাল কোনো পোস্টে, মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে সেই ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত হবে না।

যুগান্তর : আপনি কি মনে করেন, সেটা কি সম্ভব?

মাহবুব কবির মিলন : প্রশ্ন হচ্ছে, আগে যে জঞ্জাল ছিল, এখনো কি আপনি সেই জঞ্জাল টানবেন? এখনো যদি সেই জঞ্জালের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তো মানুষ আশা হারিয়ে ফেলবে। কাজেই আমলাতন্ত্র সংস্কারের মূল জায়গা হলো-দলদাসত্ব বন্ধ করা, মেধার মূল্যায়ন করা এবং সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের একেবারে সামনের সারিতে নিয়ে আসা। বর্তমান ও আগামী সরকারের এটাই হওয়া উচিত প্রধান কাজ।

যুগান্তর : এই প্রশ্নটা না করলেই নয়। আপনি বলছেন, এই সরকার দলনিরপেক্ষ সরকার। উনাদের ভোটব্যাংকের চিন্তা নেই। তার মানে হচ্ছে, রিফর্ম করার একটা বিশাল সুযোগ উনাদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-যে প্রশাসন নিয়ে উনারা কাজ করছেন, আমরা যদি পুলিশ প্রশাসনের কথাই ধরি, বা সাধারণ প্রশাসনের কথা ধরি-এটা কি ১৬ বছরে তৈরি করা একটা প্রশাসন নয়? এদের দিয়ে কি এই রিফর্মটা করা সম্ভব?

মাহবুব কবির মিলন : একটা কথা আছে-সিস্টেম মানুষকে ভালো করে। আমাদের সিস্টেমটা নষ্ট হয়ে গেছে। এই ১৬ বছরে বা তারও আগের কথা যদি বলি, সিস্টেমটা নষ্ট হতে হতে এখন একদম খাদের কিনারায়। মানুষ যখন সিস্টেমে পড়ে, তখন সে ভালো হতে বাধ্য হয়। যেমন আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে যায়, সেখানে গিয়ে কি তারা ট্রাফিক আইন অমান্য করে? করে না। কারণ সেখানে সিস্টেম তাকে বাধ্য করে।

আমাদের প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই কথা। এই যে ১৬ বছর বা তার বেশি সময় ধরে যারা কাজ করছেন, তারা কিন্তু এই সিস্টেমের অংশ হয়ে গেছে। এখন আপনি যদি সিস্টেমটা পালটে দেন-অর্থাৎ ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা একদম স্বচ্ছভাবে করেন-তাহলে দেখবেন এ প্রশাসনের বড় একটা অংশই লাইনে চলে আসবে। কারণ সবাই তো আর জন্মগতভাবে খারাপ নয়। অনেকে পরিস্থিতির চাপে বা সিস্টেমের কারণে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। আর যারা একদমই আদর্শগতভাবে বা মানসিকভাবে পচে গেছে, তাদের তো সরাতেই হবে। আমি যেটা আগেই বলেছি-ট্র্যাক রেকর্ড দেখে তাদের সাইডলাইন করতে হবে। আর রিফর্ম কিন্তু একদিনে হবে না। এটা একটা প্রসেস। এ সরকারকে সেই প্রসেসটা শুরু করতে হবে। তারা যদি শক্ত হাতে স্টিয়ারিংটা ধরে এবং বুঝিয়ে দেয় যে, আগের মতো আর ‘দলদাস’ হয়ে পার পাওয়া যাবে না, তাহলে দেখবেন এই প্রশাসনের ভেতর থেকেই ভালো কর্মকর্তারা বেরিয়ে আসবে। যারা হয়তো এতদিন কোণঠাসা হয়েছিল।

কাজেই সম্ভব নয়-এটা আমি বলব না। তবে কাজটা খুব কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। সরকারকে অনেক বেশি কৌশলী এবং একইসঙ্গে কঠোর হতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, প্রশাসনের সবাইকে কিন্তু আপনি খারাপ বলতে পারেন না। এখানে অনেক ভালো কর্মকর্তা আছেন, যারা হয়তো পরিস্থিতির কারণে চুপচাপ ছিলেন, বা যারা হয়তো প্রপার গাইডেন্স পায়নি। আপনি যখন একটা শক্ত মেসেজ দেবেন যে, এখন থেকে সব হবে নিয়মের মধ্যে, কোনো লবিং চলবে না, কোনো আনডিউ প্রিভিলেজ দেওয়া হবে না, তখন দেখবেন, এ প্রশাসনের চেহারা বদলে যাবে।

তবে হ্যাঁ, যারা সাপের মতো বিষাক্ত হয়ে গেছে, যাদের গায়ে ওই ১৬ বছরের পচন লেগে গেছে-তাদের অবশ্যই প্রশাসন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। সেটা উনারা উনাদের ইনটেলিজেন্স বা পদ্ধতিগতভাবে খুঁজে বের করবেন। কিন্তু ঢালাওভাবে যদি আপনি প্রশাসনকে শত্রু ভাবেন, তাহলে আপনি কাজ করতে পারবেন না। আপনাকে তাদের দিয়েই কাজ করিয়ে নিতে হবে। এটাই হলো চ্যালেঞ্জ।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

মাহবুব কবির মিলন : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

হালফিল বয়ান পাহাড়ের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ

পাহাড়ের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ

বৌদ্ধ প্রবারণার আবেদন সর্বজনীন

বৌদ্ধ প্রবারণার আবেদন সর্বজনীন

ইউরোপের আন্দোলন : আবারও সেই ইসলামভীতি!

ইউরোপের আন্দোলন : আবারও সেই ইসলামভীতি!

বৃহত্তর মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

বৃহত্তর মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম