সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : থামাতে হবে ব্যর্থতার শৃঙ্খল
Advertisement
মেজর (অব.) একেএম শাকিল নেওয়াজ
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাম্প্রতিক সময়ে একটি পোশাক কারখানা এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সিলিন্ডারবাহী যান থেকে সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। বিস্ফোরণের শক্তিতে সিলিন্ডার দূরে ছিটকে পড়ার কথাও খবরে এসেছে। ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় শিল্পনিরাপত্তা ও বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা।
তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তদন্ত ছাড়া সিলিন্ডারের খোলস, ভাল্ভ, চাপমুক্তকারী যন্ত্র, সংযোগনল, নামানোর সময় আঘাত, ছড়িয়ে পড়া গ্যাস কিংবা বাইরের কোনো আগুন-কোনটি প্রথমে ব্যর্থ হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা দায়িত্বশীল হবে না। তাই এ আলোচনা কোনো চূড়ান্ত রায় নয়; এটি অগ্নি ও বিপজ্জনক পদার্থবিষয়ক প্রকৌশল জ্ঞানের ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ।
বিস্ফোরণ কারণ নয়, এটি পরিণতি
সংবাদে প্রায়ই বলা হয়, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগেছে।’ কিন্তু একজন বৈজ্ঞানিক তদন্তকারীর কাছে বিস্ফোরণ ঘটনার শেষ দৃশ্য। তার প্রথম প্রশ্ন হবে-গ্যাস প্রথম কোথা দিয়ে, কীভাবে এবং কেন বের হলো?
এলপিজি সিলিন্ডার একই সঙ্গে চার ধরনের বিপদ বহন করে। এতে দাহ্য জ্বালানি থাকে, ভেতরে উচ্চচাপ থাকে, তরল গ্যাস বের হলে দ্রুত বিপুল পরিমাণ বাষ্পে পরিণত হয় এবং সিলিন্ডার ছুটে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আঘাত করতে পারে। এলপিজির বাষ্প বাতাসের চেয়ে ভারী। তাই গ্যাস বের হলে তা সব সময় ওপরে উঠে চলে যায় না; বরং মেঝে, নালা, গর্ত, গাড়ির নিচে কিংবা কম বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে জমতে পারে। যে জায়গায় গ্যাস বের হচ্ছে, আগুনের উৎস সেই জায়গাতেই থাকতে হবে-এমন নয়। গ্যাসের মেঘ দূরের বৈদ্যুতিক সুইচ, মোটর, গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, উত্তপ্ত বস্তু, সিগারেট, স্থির বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ বা খোলা আগুন পর্যন্ত পৌঁছে জ্বলে উঠতে পারে।
সুতরাং বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনার প্রথম যুদ্ধ আগুন নেভানোর বিরুদ্ধে নয়; প্রথম যুদ্ধ হলো গ্যাস বের হওয়া বন্ধ করা, ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা এবং কোথাও জমতে না দেওয়া।
কী কী কারণে ঘটনা ঘটতে পারে
প্রথম আশঙ্কা-সিলিন্ডার নামানোর সময় পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়া। একটি সিলিন্ডারের সঙ্গে অন্যটির সংঘর্ষ, সুরক্ষাকবচ ছাড়া ভাল্ভ, সিলিন্ডার টেনে বা ছুড়ে নামানো কিংবা ভুল উত্তোলনপদ্ধতি ভাল্ভ বা গলার অংশ ভেঙে দিতে পারে। ভাল্ভ বিচ্ছিন্ন হলে উচ্চচাপের সিলিন্ডার রকেটের মতো ছুটে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে দ্রুত গ্যাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয় আশঙ্কা-সিলিন্ডারের কাঠামোগত দুর্বলতা। জং ধরা, গভীর আঁচড়, বসে যাওয়া বা ফুলে ওঠা অংশ, জোড়া অংশে ত্রুটি, নিম্নমানের বা নকল সিলিন্ডার, মেয়াদোত্তীর্ণ চাপপরীক্ষা, পুরোনো আঘাত কিংবা আগের তাপক্ষতি সিলিন্ডারের শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। ভাঙা অংশের ধাতব পরীক্ষা ছাড়া সিলিন্ডারটি আগে ভেঙেছিল, নাকি আগুনে উত্তপ্ত হওয়ার পর ভেঙেছে-তা বলা যাবে না।
তৃতীয় আশঙ্কা-অতিরিক্ত গ্যাস ভরা। সিলিন্ডারের ভেতরে তরল গ্যাসের প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা রাখতে হয়। অতিরিক্ত গ্যাস ভরা হলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে তরল প্রসারিত হয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভুল খালি ওজন, ত্রুটিপূর্ণ ওজনযন্ত্র, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস ভরা বন্ধ করার ব্যবস্থার ব্যর্থতা কিংবা আবার ওজন যাচাই না করা এর কারণ হতে পারে।
চতুর্থ আশঙ্কা-ভাল্ভ, নিয়ন্ত্রক, সংযোগনল বা জোড়া দিয়ে গ্যাস বের হওয়া। নষ্ট রাবারের সিল, ক্ষতিগ্রস্ত প্যাঁচ, বেমানান সংযোগ, অননুমোদিত জোড়া, পুরোনো নল, ঢিলা সংযোগ কিংবা নামানোর আগে ভাল্ভ খোলা থাকার কারণে গ্যাস বের হতে পারে।
পঞ্চম আশঙ্কা-ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের মেঘে আগুন ধরা। গ্যাস বাতাসের সঙ্গে দাহ্য অনুপাতে মিশে আগুনের উৎস পেলে মুহূর্তে শিখা ছড়িয়ে পড়তে পারে। জায়গাটি আংশিক ঘেরা, ঘনবস্তুপূর্ণ বা বাধাযুক্ত হলে আগুনের গতি বেড়ে ক্ষতিকর চাপের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি এলপিজি আগুনকে গ্যাসের মেঘের বিস্ফোরণ বলা যাবে না; ঘটনাস্থলের চাপের চিহ্ন, ক্ষতির ধরন এবং ঘেরাবদ্ধতার প্রমাণ প্রয়োজন।
ষষ্ঠ আশঙ্কা-আগুনে উত্তপ্ত হয়ে চাপযুক্ত সিলিন্ডার ফেটে যাওয়া। বাইরে থেকে আগুন সিলিন্ডারের ওপর দীর্ঘ সময় তাপ দিলে ধাতু দ্রুত শক্তি হারায়। একই সময়ে সিলিন্ডারের ভেতরের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সিলিন্ডার ভয়াবহভাবে ফেটে গেলে তরল গ্যাস মুহূর্তে বাষ্পে পরিণত হয়। সেই গ্যাসে আগুন ধরলে বিশাল আগুনের গোলা, প্রচণ্ড তাপ এবং ধাতব টুকরা সৃষ্টি হতে পারে।
ছোট ভুল কীভাবে গণবিপর্যয়ে পরিণত হয়
একটি সম্ভাব্য ঘটনাক্রম হতে পারে : অনিরাপদ বহন বা ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার-ভাল্ভ, খোলস বা সংযোগে ক্ষতি-গ্যাস-বের হওয়া-তরল গ্যাস দ্রুত বাষ্পে পরিণত হওয়া-নিচু জায়গা দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়া-দাহ্য গ্যাসের মেঘ তৈরি-কিছু সময় পরে আগুনের সংস্পর্শ-দ্রুত আগুন বা বিস্ফোরণ-মানুষের পালানোর পথ ব্যাহত-পাশের সিলিন্ডার উত্তপ্ত হওয়া-ভেতরের চাপ বৃদ্ধি ও ধাতু দুর্বল হওয়া-সিলিন্ডার ফেটে আগুনের গোলা ও ধাতব টুকরো ছড়িয়ে পড়া-একটির পর একটি সিলিন্ডার আক্রান্ত হওয়া-ব্যাপক প্রাণহানি।
আরেকটি ঘটনাক্রমও সম্ভব। প্রথমে গাড়ি বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা থেকে আগুন লাগল; সেই আগুন সিলিন্ডার উত্তপ্ত করল; সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হলো বা সিলিন্ডার ফেটে গেল; এরপর পাশের সিলিন্ডারগুলোও উত্তপ্ত হয়ে একের পর এক বিস্ফোরিত হলো।
কোন ঘটনাক্রমটি সত্য, তা জানতে পর্যবেক্ষণচিত্রের সময়ক্রম, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রথম আগুনের স্থান, ছিটকে পড়া টুকরার গতিপথ, ধাতব ভাঙনের ধরন, ভাল্ভের অবস্থা, গ্যাস ভরার হিসাব এবং সম্ভাব্য আগুনের উৎস একসঙ্গে পরীক্ষা করতে হবে।
আমাদের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কোথায়
প্রথম দুর্বলতা হলো, সিলিন্ডারের পরিচয় ও ইতিহাস অনুসরণ করতে না পারা। প্রতিটি সিলিন্ডারের প্রস্তুতকারক, ক্রমিক নম্বর, তৈরির তারিখ, মালিকানা, কোথায় গ্যাস ভরা হয়েছে, সর্বশেষ কবে পরীক্ষা হয়েছে এবং কখন মেরামত করা হয়েছে-এসব তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকা দরকার। তা না হলে একটি ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার বছরের পর বছর বাজারে ঘুরতে পারে। দ্বিতীয় দুর্বলতা সিলিন্ডারের যান্ত্রিক অখণ্ডতা রক্ষা না করা। শুধু নতুন রং করলেই সিলিন্ডার নিরাপদ হয় না। নিয়মিত বাহ্যিক পরীক্ষা, মরিচা ও ক্ষয় যাচাই, ভাল্ভ পরীক্ষা, গ্যাস বের হওয়ার পরীক্ষা, খালি ওজন যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ে চাপ পরীক্ষা করতে হবে। অননুমোদিত ঝালাই, বসে যাওয়া অংশ মেরামত বা যেনতেনভাবে ভাল্ভ পরিবর্তন মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তৃতীয় দুর্বলতা অতিরিক্ত গ্যাস ভরা প্রতিরোধে ব্যর্থতা। নির্ভুল ওজনযন্ত্র, নির্ধারিত ভরার অনুপাত, স্বয়ংক্রিয় বন্ধব্যবস্থা, দ্বিতীয়বার ওজন যাচাই এবং বাতিল সিলিন্ডার আলাদা রাখার ব্যবস্থা ছাড়া অতিরিক্ত ভরা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। চতুর্থ দুর্বলতা অনুপযুক্ত যানবাহন। সিলিন্ডার খাড়া অবস্থায়, শক্তভাবে বাঁধা, আঘাত থেকে সুরক্ষিত এবং বাতাস চলাচল করে-এমন অনুমোদিত গাড়িতে বহন করতে হবে। সাধারণ মালবাহী বা চারপাশ বন্ধ গাড়িতে এলোমেলোভাবে সিলিন্ডার বহন করলে গড়িয়ে পড়া, সংঘর্ষ, ভাল্ভ ভাঙা এবং গ্যাস জমার আশঙ্কা বাড়ে। পঞ্চম দুর্বলতা নামানোর স্থানের প্রকৌশলগত নিরাপত্তা। সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল, আগুনের উৎস নিষিদ্ধকরণ, উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনমতো স্থির বিদ্যুৎ অপসারণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুধু গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র বসালেই হবে না। সেটি এলপিজি শনাক্ত করতে পারে কিনা, সঠিক নিচু স্থানে বসানো হয়েছে কিনা, যথেষ্ট এলাকা ঢাকে কিনা, নিয়মিত পরীক্ষা হয় কিনা এবং বিপদের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে কিনা-সবই নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠ দুর্বলতা স্থাপনার বিন্যাস ও নিরাপদ দূরত্ব। সিলিন্ডার রাখার স্থান, নামানোর জায়গা, কারখানা ভবন, জনসড়ক, বৈদ্যুতিক রূপান্তরক, বিদ্যুৎ উৎপাদক যন্ত্র, নালা, রান্নাঘর, ঝালাইয়ের স্থান এবং জরুরি বের হওয়ার পথের মধ্যে ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপদ ব্যবধান থাকতে হবে। সব স্থাপনার জন্য একই দূরত্ব নিরাপদ নয়; গ্যাসের পরিমাণ, ভবনের ব্যবহার, আশপাশের জনসংখ্যা এবং অনুমোদিত নকশা বিবেচনা করতে হবে।
অগ্নিনিরাপত্তা মানে শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নয়
গ্যাস বের হওয়ার পর এলাকা খালি না করে সিলিন্ডার সরানোর চেষ্টা, বিদ্যুৎ ও আগুনের উৎস বন্ধ না করা, জরুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ না করা, মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে না নেওয়া এবং অপ্রশিক্ষিত কর্মীদের দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা বিপদ বহুগুণ বাড়াতে পারে।
এখনই জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে : উচ্চঝুঁকির কারখানা, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, বাজার ও সিলিন্ডার গুদামে যৌথ পরিদর্শন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত, পরিচয়হীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার আলাদা করতে হবে। সরবরাহকারী ও যানবাহনের অনুমোদন যাচাই, জরুরি যোগাযোগ নম্বর ও গ্যাস বন্ধের স্থান প্রদর্শন, নামানোর জায়গার নালা ও আগুনের উৎস পরীক্ষা এবং কর্মীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নির্দেশনা দিতে হবে।
৯০ দিনের মধ্যে : জাতীয় সিলিন্ডার তথ্যভান্ডার, অনুমোদিত পরিবহণকারী, প্রশিক্ষিত সিলিন্ডার পরিচালনাকারী, একক গ্রহণ ও নামানোর নিয়ম, বাধ্যতামূলক যাচাই তালিকা, সুরক্ষিত নামানোর স্থান, কার্যকর গ্যাস শনাক্তকরণ ও জরুরি বন্ধব্যবস্থা, বাস্তবসম্মত গ্যাস নিঃসরণ-আগুন-স্থানত্যাগ মহড়া এবং ফায়ার সার্ভিসের আগাম ঘটনা পরিকল্পনা চালু করতে হবে।
এক বছরের মধ্যে : সিলিন্ডারের জন্ম থেকে বাতিল হওয়া পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী বিধান, গ্যাস ভরার কারখানার নিরীক্ষা, নকল ও অবৈধ সিলিন্ডারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, স্বাধীন চাপ পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বীকৃতি, দ্রুত পাঠযোগ্য সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে সিলিন্ডারের ইতিহাস সংরক্ষণ, বড় গ্যাসভান্ডারের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বড় দুর্ঘটনায় স্বাধীন বহুবিষয়ক তদন্ত বোর্ড গঠন করতে হবে।
নিরাপত্তার পূর্ণ ধারাটি হবে
স্বীকৃত উৎস-অনুমোদিত যানবাহন-বাধা ও সুরক্ষিত সিলিন্ডার-নিয়ন্ত্রিত নামানোর স্থান-বায়ু চলাচল ও আগুনের উৎস নিয়ন্ত্রণ-গ্যাস শনাক্তকরণ-স্বয়ংক্রিয় ও হাতে পরিচালিত জরুরি বন্ধব্যবস্থা-অনুমোদিত সংরক্ষণ ও সংযোগব্যবস্থা-নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ-প্রশিক্ষিত জরুরি সাড়া-সুরক্ষিত জনগণ।
শেষ কথা
এ ধরনের দুর্ঘটনায় সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন-‘আগুন কীভাবে নেভানো যেত?’ কিন্তু একজন পেশাদারের প্রশ্ন আরও কঠিন-
‘আগুন বা বিস্ফোরণের সুযোগটি কেন সৃষ্টি হয়েছিল?’ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিরাপত্তার শেষ দিকের একটি বাধা মাত্র। প্রকৃত নিরাপত্তা শুরু হয় দক্ষ নকশা, শক্তিশালী সিলিন্ডার, নিয়ন্ত্রিত গ্যাস ভরা, অনুমোদিত পরিবহণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ নামানো, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, দ্রুত গ্যাস শনাক্তকরণ, জরুরি গ্যাস বন্ধ, নিরাপদ দূরত্ব, কার্যকর তত্ত্বাবধান এবং জীবন্ত নিরাপত্তা সংস্কৃতি থেকে।
বড় বিপর্যয় সাধারণত একটি ভুলে ঘটে না; একাধিক স্বাধীন সুরক্ষাব্যবস্থা একে একে ব্যর্থ হলেই তা জন্ম নেয়। একটি অক্ষত সিলিন্ডার মানুষের প্রয়োজনীয় জ্বালানি বহন করে; কিন্তু গ্যাস ধরে রাখার ক্ষমতা হারালে একই সিলিন্ডার জ্বালানির উৎস, উচ্চচাপের পাত্র, আগুনের গোলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র-সবকিছু একসঙ্গে হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিটি কারখানার ফটক, পরিবহণ আঙিনা ও এলপিজি স্থাপনায় একটি নীতি লেখা থাকা উচিত : শেখার জন্য অপেক্ষা করবেন না-গ্যাস বের হওয়া শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করুন। কারণ বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় সাফল্য আগুন নেভানো নয়; আগুন, বিস্ফোরণ ও মানুষের মৃত্যু ঘটার আগেই ব্যর্থতার শৃঙ্খল থামিয়ে দেওয়া।
মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ : অগ্নি, দুর্যোগ ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ
