Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে চাই সুস্থ জীবন

Icon

ড. শহীদুল ইসলাম

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মানুষ এখন আগের তুলনায় বেশি দিন বাঁচছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, টিকাদান, উন্নত পুষ্টি, নিরাপদ পানি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের ফলে প্রায় সব দেশেই মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। বাংলাদেশেও গত কয়েক দশকে মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু এর সঙ্গে একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে-শুধু বেশি বছর বেঁচে থাকাই কি যথেষ্ট? একজন মানুষ যদি ৮০ বছর বাঁচেন, কিন্তু জীবনের শেষ ১০-১৫ বছর চলাফেরার সীমাবদ্ধতা, অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, একাকিত্ব এবং অন্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল অবস্থায় কাটান, তাহলে শুধু দীর্ঘায়ু দিয়ে তার জীবনের মান বোঝা যায় না। আধুনিক জনস্বাস্থ্য তাই এখন শুধু জীবনকাল নয়, বরং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এখান থেকেই এসেছে ‘স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য’ বা ‘হেলদি এজিংয়ে’র ধারণা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে ব্যাখ্যা করে, যার মাধ্যমে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সুস্থ ও অর্থবহ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর সক্ষমতা তৈরি ও বজায় রাখা যায়। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ-স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য মানে শরীরে কোনো রোগ না থাকা নয়। একজন মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাত বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকতে পারে; কিন্তু রোগগুলো যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজ করতে, চলাফেরা করতে, সিদ্ধান্ত নিতে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং পরিবার ও সমাজে ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে তিনিও স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়াতে পারেন।

দুজন মানুষের বয়স ৭০ বছর হলেও তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এক নাও হতে পারে। একজন হয়তো নিয়মিত হাঁটছেন, বাজার করছেন, ভ্রমণ করছেন, বই পড়ছেন এবং পরিবারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছেন। অন্যজন একই বয়সে দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হতে পারেন। তাই শুধু বয়সের সংখ্যা দিয়ে একজন মানুষের সামগ্রিক অবস্থা বিচার করা যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি কী করতে পারছেন। তিনি কি নিজের দৈনন্দিন প্রয়োজন সামলাতে পারছেন? নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন? স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন? এসব সক্ষমতা যতদিন ধরে রাখা যায়, স্বাধীনতা ও জীবনের মান বজায় রাখার সম্ভাবনা তত বেশি।

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যকে এখন শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার বিষয় হিসাবে দেখা হয় না। সেখানে রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক যোগাযোগ, নিরাপদ বাসস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা এবং বয়সবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একজন মানুষ কত বছর বেঁচে আছেন, তার পাশাপাশি সেই বছরগুলোর কতটা সময় তিনি সুস্থ ও স্বাধীনভাবে কাটাতে পারছেন-এ প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পশ্চিমা বিশ্বের স্বাস্থ্যনীতিতে একটি বিষয় বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে-স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের প্রস্তুতি ৬০ বা ৬৫ বছর বয়সে শুরু হয় না। এর ভিত্তি তৈরি হয় এর অনেক আগে। ৪০, ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে আমরা কী খাচ্ছি, কতটা চলাফেরা করছি, পেশিশক্তি কেমন, শরীরের ওজন কেমন, রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তামাক ব্যবহার করছি কি না এবং সামাজিকভাবে কতটা সক্রিয়-এসবই পরবর্তী জীবনের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। আমাদের দেশে পরিবার এখনো প্রবীণ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক প্রবীণ সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানো, পারিবারিক সিদ্ধান্তে অংশ নেওয়া এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য বলতে শুধু রোগমুক্ত থাকা বোঝায় না। একজন মানুষ যেন যতদিন সম্ভব নিজের কাজ নিজে করতে পারেন, চলাফেরা করতে পারেন, পরিবারে সম্মান পান, নিজের সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান এবং নিজেকে পরিবারের বোঝা নয় বরং সক্রিয় সদস্য মনে করেন-এসবও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশে মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীও বাড়ছে। এর অর্থ ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, বাত, চোখের সমস্যা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক দুর্বলতার মতো বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই এখন থেকেই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়ে প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে যে বিষয়টি আমরা অনেক সময় যথেষ্ট গুরুত্ব দিই না, সেটি হলো পেশির শক্তি। বয়সের সঙ্গে পেশির ভর ও শক্তি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অপর্যাপ্ত পুষ্টি যুক্ত হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পেশিশক্তি কমে গেলে চেয়ার থেকে ওঠা, সিঁড়ি ভাঙা, বাজারের ব্যাগ বহন করা কিংবা পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানোর মতো সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে যেতে পারে। পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যাওয়া অনেক প্রবীণ মানুষের স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এ কারণে শুধু হাঁটা নয়, ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং চিকিৎসাগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়ালে হাত রেখে পুশ-আপ, চেয়ার থেকে ধীরে ধীরে ওঠা-বসা, হালকা ওজন ব্যবহার কিংবা প্রশিক্ষকের পরামর্শে উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন বয়স বাড়ার সঙ্গে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য উপকারী হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের জন্য বিদেশি বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল খাবার প্রয়োজন-এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত খাদ্যের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টিকর খাবার রয়েছে। মাছ, ডিম, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে। ছোট মাছ, বিশেষ করে কাঁটাসহ খাওয়া হলে তা প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি দিতে পারে। বিভিন্ন শাক, লাউ, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, ঢেঁড়স, করলা, টমেটোসহ মৌসুমি সবজি খাদ্যে বৈচিত্র্য আনে। পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, কলা, কমলা ও অন্যান্য মৌসুমি ফলও খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

বয়স বাড়লে অনেকে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন। কিন্তু কম খাওয়ার সঙ্গে যদি প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণও কমে যায়, তাহলে পেশিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত কমতে পারে। তাই বার্ধক্যে শুধু পেট ভরানো নয়, খাবারের পুষ্টিমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে ভাত বা রুটির পাশাপাশি ডাল, মাছ বা ডিম, পর্যাপ্ত সবজি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ফল ও দুধজাত খাবার রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত তেল-চর্বি এবং ঘনঘন ভাজাপোড়া খাওয়া সীমিত রাখা প্রয়োজন।

৪০ বা ৫০ বছরের পর থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার দিকে পরিকল্পিতভাবে নজর দেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তের শর্করা ও চর্বি পরীক্ষা করা যেতে পারে। চোখ, দাঁত এবং শ্রবণশক্তির সমস্যাকেও অবহেলা করা উচিত নয়। বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং টিকাদানের বিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসা এবং নির্ধারিত ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য শুধু শরীরের বিষয় নয়; মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং মানসিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু নতুন কিছু শেখা, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা দৈনন্দিন কার্যকর সক্ষমতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বই বা পত্রিকা পড়া, লেখালেখি করা, বাগান করা, দাবা বা অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা, নতুন প্রযুক্তি শেখা, নতুন রান্না শেখা কিংবা নাতি-নাতনিকে পড়ানো-এসব কাজ বয়স বাড়ার পরও জীবনকে সক্রিয় ও অর্থবহ রাখতে পারে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এলাকার শিশুদের পড়াতে পারেন। একজন কৃষক তরুণ কৃষকদের নিজের অভিজ্ঞতা শেখাতে পারেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য পেশাজীবী তরুণদের পরামর্শ দিতে পারেন। বাংলাদেশে যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমছে। কাজ ও শিক্ষার কারণে অনেক সন্তান অন্য শহর বা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে অনেক প্রবীণ দম্পতি বা ব্যক্তি একা বসবাস করছেন। তাই একাকিত্বকে শুধু আবেগের বিষয় হিসাবে দেখলে ভুল হবে। দীর্ঘদিন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবারের তরুণ সদস্যদের দায়িত্ব তাই শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; নিয়মিত কথা বলা, সময় দেওয়া, পারিবারিক সিদ্ধান্তে বাবা-মাকে যুক্ত করা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করাও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে প্রবীণদেরও বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

ঘুম স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘুমের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যাকে শুধু ‘বয়স হয়েছে’ বলে অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, দিনের বেলা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত নাক ডাকা অথবা দিনের বেলা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বিষয় হলো তামাক। ধূমপানের পাশাপাশি জর্দা, গুল এবং অন্যান্য ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ৩০ বা ৪০ বছর তামাক ব্যবহার করেছেন বলে এখন বন্ধ করে আর লাভ নেই-এ ধারণা সঠিক নয়। বয়স যাই হোক, তামাক ছেড়ে দেওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকার রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো তামাকমুক্ত জীবন।

স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের সব দায়িত্ব অবশ্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। একজন মানুষ নিয়মিত হাঁটতে চাইলে তার এলাকায় নিরাপদ রাস্তা বা হাঁটার জায়গা প্রয়োজন। হাসপাতালে যেতে হলে সহজ ও নিরাপদ পরিবহণ প্রয়োজন। বাড়িতে চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ সিঁড়ি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক ব্যবস্থা দরকার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবীণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সমন্বিত চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নগর ও সামাজিক পরিকল্পনায় তাই বয়সবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নিরাপদ ফুটপাত, পার্ক ও হাঁটার জায়গা, প্রবীণবান্ধব গণপরিবহণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িভিত্তিক পরিচর্যার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বয়স সম্পর্কে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন। ৬০ বা ৬৫ বছর বয়স হলেই একজন মানুষ সমাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় হয়ে যান না। বরং কয়েক দশকের কর্মজীবন ও জীবনযাপনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা সমাজের মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিবারেরও এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রবীণ বাবা-মাকে শুধু যত্নের প্রয়োজন আছে এমন মানুষ হিসাবে না দেখে পরিবারের সক্রিয় সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতামত নেওয়া, পারিবারিক সিদ্ধান্তে যুক্ত রাখা, নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া এবং তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো-এসবও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের অংশ। আর্থিক নিরাপত্তাও উপেক্ষা করা যায় না। চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার, বাসস্থান ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য ন্যূনতম আর্থিক নিশ্চয়তা একজন প্রবীণ মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বার্ধক্য কোনো রোগ নয়। এটি জীবনের স্বাভাবিক একটি পর্যায়। স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের লক্ষ্য বয়স থামিয়ে দেওয়া বা মানুষকে চিরতরুণ রাখা নয়। বরং বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিবর্তনের মধ্যেও যতদিন সম্ভব শারীরিক শক্তি, মানসিক সক্ষমতা, স্বাধীনতা, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মমর্যাদা এবং জীবনের উদ্দেশ্য ধরে রাখাই এর মূল লক্ষ্য।

ড. শহীদুল ইসলাম : খাদ্য বিজ্ঞানী, যুক্তরাজ্য

[email protected]

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে চাই সুস্থ জীবন

দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে চাই সুস্থ জীবন

সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : থামাতে হবে ব্যর্থতার শৃঙ্খল

সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : থামাতে হবে ব্যর্থতার শৃঙ্খল

জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার

জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম