Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

Advertisement

Icon

তাহমিনা আখতার

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চল্লিশের পরের সময়টি মানুষের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময় জীবনে পরিপক্বতা, পেশাগত দায়িত্ব, পারিবারিক অঙ্গীকার, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত অর্জন বাড়ে। একই সঙ্গে শরীর, মন এবং সামাজিক জীবনে নানা পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব বাড়তে পারে, সন্তানদের প্রতি অধিক মনোযোগ প্রয়োজন হতে পারে, বয়স্ক মা-বাবার যত্ন নিতে হয়, সম্পর্কের ধরন বদলায়, আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকে, পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ে। এ পর্যায়ে আমরা সাধারণত শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি বেশি মনোযোগী হই-রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরল কিংবা অন্যান্য শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি-কিন্তু মানসিক সুস্থতাকে অনেক সময় একই গুরুত্ব দিই না। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক সংযোগ। মানুষ একা একা বয়স বাড়ায় না। পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং সামাজিক অংশগ্রহণ আমাদের আবেগগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন ধরনের সংগঠনে অংশগ্রহণ সামাজিক যোগাযোগের গণ্ডি আরও বিস্তৃত হয়। এ ধরনের সংগঠন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, অংশগ্রহণ, বন্ধুত্ব, সেবা, পারস্পরিক সহায়তা এবং আপনত্ববোধের সুযোগ তৈরি করে, যা পরবর্তী জীবনে মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হতে পারে। পরিবারেও একইভাবে সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি যদি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন, বেশি ভুলে যান, উদ্বিগ্ন, খিটখিটে বা আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়েন, তবে সমালোচনা অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগেও প্রয়োজন হয় মনোযোগ দিয়ে শোনা, আশ্বস্ত করা, সম্মান দেখানো এবং বোঝার চেষ্টা করা। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো সমাজে যে কলঙ্ক ও সংকোচ রয়েছে, তা অনেক মানুষকে নিজের কষ্টের কথা খোলামেলা বলতে বাধা দেয়। আমাদের আইনি কাঠামো মনে করিয়ে দেয় যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবিক আচরণ ও যথাযথ সেবার অধিকার রয়েছে। তাই মানসিকভাবে সুস্থ সমাজ বলতে এমন একটি সমাজকে বোঝায়, যেখানে বয়স, আবেগগত অসুবিধা বা বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনের কারণে কাউকে বিচ্ছিন্ন করা হয় না; বরং পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে তাকে সহায়তা করা হয়। ক্লিনিক্যাল সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে আমার একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি যে পরিবার, সামাজিক সহায়তা এবং কমিউনিটির পরিবেশ মানুষের মানসিক সুস্থতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই সহায়ক পরিবেশ, পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা, মানবিক সহনশীলতা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

৪০ বছর বয়সের পর মানসিক স্বাস্থ্যের সাধারণ সমস্যা ক. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ : এ বয়সে পরিবার, কর্মক্ষেত্র, আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং বয়স্ক মা-বাবার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। একজন কর্মজীবী নারী পরিবার, চাকরি ও সামাজিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় পান না। ফলে তার উদ্বেগ, ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে। ক্রমাগত পারিবারিক দায়িত্ব, পেশাগত দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন নারী তার নিজের প্রতি একবারেই দৃষ্টি দিতে পারেন না, নিজের জন্য একটু সময়, নিজের ভালো লাগার, নিজেকে উপলব্ধি করার কোনো সময় তার নেই। সন্তানদের প্রত্যাশা বা পারিবারিক সবকিছু দায়িত্ব পালন করবেন, বাবা অর্থ উপার্জনকারী হিসাবে বাইরের দায়িত্ব পালন করবেন, স্ত্রী হিসাবে স্বামীর সেবাযত্ন, বৃদ্ধ মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়স্বজন সবকিছু সামলে নিবেন। এর ওপরে পেশাগত দায়িত্ব তো রয়েছেই। এই যে বৈষম্যমূলক জেন্ডার ভূমিকার প্রতিফলন, বাংলাদেশ সমাজব্যবস্থায় শক্তিশালী রয়েছে এর ফলে নারীদের বিষণ্নতা, উদ্বিগ্নতা এবং সামাজিক চাপ, আত্মহত্যার প্রবণতা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে বর্তমানে ডিভোর্স এবং বিচ্ছেদ অনেক বেড়েছে। ফলে একজন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী এবং যদি সন্তান থাকে তাহলে শুরু হয়ে যায় আরেক জীবনব্যাপী সমস্যা। আবার গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বেশির ভাগ নারী তার অতীত জীবনে নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, পরিচিত অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো-না-কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এসব নারীর মধ্যে এক ধরনের Posttraumatic Stress Disorder হয়ে থাকে, ফলে তার মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত, যৌন জীবনে ব্যাঘাত এবং আচরণে ও আবেগে ব্যাঘাত/বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি অবহেলিত এবং উপেক্ষিত। আবার একজন নারী যখন সন্তান ধারণ, জন্মদান, লালন-পালনের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করেন, তখন অনেক সময় সন্তান জন্মদানের পরবর্তীকালে তার মধ্যে Post-partum Depression হতে পারে।

খ. বিষণ্নতা : জীবনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, প্রিয়জনকে হারানো, একাকিত্ব, সম্পর্কের অবনতি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষণ : দীর্ঘ সময় মন খারাপ থাকা, আগের পছন্দের কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া, ঘুম ও ক্ষুধার পরিবর্তন, নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা।

গ. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের পরিবর্তন : ৪০ বছরের পর কেউ কেউ নতুন কিছু শিখতে বা তথ্য মনে করতে আগের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শেখার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার সম্ভাব্য কারণ হলো : অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্যান্য চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। স্মৃতিশক্তির সমস্যা ক্রমাগত বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ঘ. পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন : সন্তানদের বড় হয়ে স্বাধীন জীবন শুরু করা, দাম্পত্য সম্পর্কের পরিবর্তন, কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক ভূমিকার পরিবর্তন মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ঙ. আত্মপরিচয় ও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন : অনেকেই এ সময় নিজেকে প্রশ্ন করেন, আমি জীবনে কী অর্জন করেছি? আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী? ভবিষ্যতে আমি কী করতে চাই? সমাজ ও পরিবারের জন্য আরও কী করতে পারি? এ প্রশ্নগুলো সব সময় মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়। এগুলো আত্মবিশ্লেষণ, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

৪০ বছর বয়সের পর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮টি উপায়

১. নিয়মিত শরীরচর্চা : স্বাস্থ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা বা অন্য ব্যায়াম করুন। ২. পর্যাপ্ত ঘুম : অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম উপকারী। ৩. নতুন কিছু শেখা : বই পড়া, লেখা, ভাষা শেখা, পড়াশোনা বা নতুন দক্ষতা চর্চা করুন। ৪. সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা : পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ রাখুন। ৫. নিজের জন্য সময় রাখা : প্রতিদিন কিছু সময় বিশ্রাম, প্রার্থনা বা ধ্যান, শখ কিংবা আনন্দদায়ক কাজে ব্যয় করুন। ৬. দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা : সব দায়িত্ব একা নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনে অন্যদের সহযোগিতা নিন। ৭. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ : বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন এবং নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন। ৮. প্রয়োজনে পেশাগত সহায়তা নেওয়া : মানসিক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সহায়তা নিন। পেশাগত সমাজকর্মী, ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারগণ, কমিউনিটি পর্যায়ে মেন্টাল হেলথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় জুড়েই মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতা রক্ষার জন্য বাস্তব কিছু উপায় রয়েছে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তা, অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক এবং শারীরিক অসুস্থতার যথাযথ ব্যবস্থাপনা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বই পড়া, নতুন কিছু শেখা, মতবিনিময়, গল্প বলা, বিভিন্ন খেলা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং কমিউনিটি জীবনে সক্রিয় থাকা আমাদের মন ও সামাজিক পরিচয়কে সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে কখন মানসিক সুস্থতার জন্য পেশাগত সহায়তা প্রয়োজন, তা বুঝতেও হবে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ঘুমের গুরুতর সমস্যা, সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, আচরণে বড় পরিবর্তন, কিংবা স্মৃতি ও মনোযোগের এমন সমস্যা যা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে-এসব বিষয় উপেক্ষা করা উচিত নয়। সব স্মৃতির সমস্যা ডিমেনশিয়ার লক্ষণ নয়; আবার কিছু আবেগগত সমস্যাও মনোযোগ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য কেবল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবার, দায়িত্বশীল কমিউনিটি, সহজপ্রাপ্য সেবা এবং এমন একটি সামাজিক পরিবেশ, যেখানে মর্যাদা ও অংশগ্রহণকে সম্মান করা হয়। চল্লিশের পরের জীবনকে কেবল অবক্ষয়ের সময় হিসাবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং এটি হতে পারে আরও বেশি পরিপক্বতা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং অর্থবহ অবদানের সময়। আমরা যেমন শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিই, তেমনি সচেতনভাবে মানসিক সুস্থতারও যত্ন নিতে হবে। আমাদের শারীরিকভাবে সক্রিয়, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সচল, সামাজিকভাবে সংযুক্ত এবং আবেগগতভাবে সচেতন থাকতে হবে। পরিবর্তনকে অযথা ভয় না পেয়ে বুঝতে হবে, দরকার হলে সহায়তা নিতে হবে এবং এমন পরিবার ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষ কলঙ্ক বা সংকোচ ছাড়াই নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের প্রয়োজন শুধু চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন বোঝাপড়া, সঙ্গ, সম্মান, জীবনের উদ্দেশ্য এবং আপন হওয়ার অনুভূতি। তাই একটি সুস্থ সমাজ শুধু সেই সমাজ নয়, যেখানে মানুষ দীর্ঘজীবী হয়; বরং সেই সমাজ, যেখানে মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত, মূল্যবান, সম্মানিত এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শহরকেন্দ্রিক সচেতনতা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে। ৫৬টি সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাসেবা রয়েছে। এছাড়া পাবনায় একটি মানসিক হাসপাতাল এবং ঢাকায় একটি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে মাত্র ৪০০ জনের মতো সাইক্রিয়াট্রিক রয়েছেন। ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য এবং মাত্র ৩টি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারের পদ রয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ কোনো-না-কোনোভাবে মানসিক রোগী এবং দিনে দিনে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ বিপুলসংখ্যক মানসিক রোগীর ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা অপ্রতুল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ৯০ শতাংশ মানুষই এ মানসিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ৫/৬ লাখ মানুষের জন্য ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। আশার কথা, বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা উপলব্ধি করছে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়-একজন মানুষের মানসিক, জৈবিক, সামাজিক, আত্মিক অবস্থার সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে সন্তোষজনক জীবনমান। চল্লিশের পর মনের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়; এটি স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের অপরিহার্য অংশ। আসুন, আমরা আমাদের মনের যত্ন নিই, একে-অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকি এবং আরও সুস্থ ও আনন্দময় বার্ধক্যের জন্য একসঙ্গে কাজ করি।

অধ্যাপক তাহমিনা আখতার : উপাচার্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

সাক্ষাৎকার উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বিশৃঙ্খল পরিবহণব্যবস্থা: ড. মোস্তফা কে. মুজেরী

উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বিশৃঙ্খল পরিবহণব্যবস্থা: ড. মোস্তফা কে. মুজেরী

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা নীতি : নতুন করে ভাবতে হবে

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা নীতি : নতুন করে ভাবতে হবে

শক্তিপূজার উৎস সন্ধানে

শক্তিপূজার উৎস সন্ধানে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম