Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

হালফিল বয়ান

জুলাই অভ্যুত্থান থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষা

Advertisement

Icon

ড. মাহফুজ পারভেজ

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই অভ্যুত্থান থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষা

Advertisement

বাংলাদেশে সচরাচর যেমনটি হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতেও তেমনটিই হয়েছে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ডামাডোলে মুষ্টিমেয় সারগর্ভ মূল্যায়ন চাপা পড়েছে এন্তার স্তুতিমূলক আলোচনার চাপে। অভ্যুত্থানকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনার জায়গাটির ক্ষতি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, যারা অভ্যুত্থানের বিরোধী ও ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলেন, তাদেরও কেউ কেউ জুলাই অভ্যুত্থানের বন্দনায় পঞ্চমুখ হয়েছে। এমন দলবদলকারী ও স্তাবকের তালিকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলরও রয়েছেন।

অথচ চাটুকারিতার বদলে জুলাই অভ্যুত্থানের গতি-প্রকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিরোধের শক্তি, অর্জন ও ভবিষ্যতের শিক্ষা নিয়ে নৈর্ব্যক্তিক আলাপ-আলোচনা ও বিশ্লেষণই জরুরি। জরুরি জুলাই অভ্যুত্থানের সমান্তরালে বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের তুলনামূলক আলোচনা। চাটুকারিতা ও মিথ্যা প্রশংসা না করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের সাফল্য ও ব্যর্থতার বিষয়গুলো সামনে এনে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করাই বরং গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের স্মরণ থাকা স্বাভাবিক, মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের বিখ্যাত বর্ষা ঋতু ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার রাস্তাগুলো ভিজিয়ে দিচ্ছিল। আকাশের সমান্তরালে মাটিতে তখন আরেক ধরনের ঝড় তৈরি হচ্ছিল। একটি ছোট্ট বিক্ষোভ থেকে একটি গণআন্দোলনের ঝড় ক্রমশ ধেয়ে আসছিল সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে; আর এ আন্দোলনের মধ্যে ছিল প্রচণ্ড দ্রোহ, ক্ষোভ আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আমূল বদলে দেওয়ার স্পৃহায় ভরপুর অভ্যুত্থানের শক্তিমত্তা।

সরকারি চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরোধিতা, বিশেষত কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি ছাত্র আন্দোলন অল্প সময়েই এক গণবিপ্লবে পরিণত হয় অনেক কারণে। তার মধ্যে যেমন ছিল আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ, তেমনিভাবে ছিল আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগ ও ভুল পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক আকারে ক্ষোভের প্রকাশ। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো জুলাই ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে নীরব ও নিষ্ক্রিয় ছিল, এমনটা হলফ করে বলা যাবে না। সবকিছুর সম্মিলিত ফলাফল হলো এই, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে চরম নাটকীয়তায় ভরা টানটান উত্তেজনাকর ঘটনাবলির মাধ্যমে।

এক বছর পরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা, বই ও বিশ্লেষণে উঠে আসছে-এ আন্দোলন কীভাবে সফল হলো এবং কেন এটি ব্যতিক্রমী ছিল। বিশ্লেষণ বলছে, এ ছাত্র আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি একটি নতুন ধারা, যা তরুণদের নেতৃত্ব, ডিজিটাল প্রতিরোধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে। গবেষক ও বিশ্লেষকরা এখন এটিকে একুশ শতকের রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক মডেল হিসাবে দেখছেন। দেখছেন, রাজনৈতিক সংগ্রামের পথে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কৌশল নির্ধারণের পন্থা হিসাবে।

সাংবাদিক ও গবেষক অনুপম দেবাশীষ রায়ের লেখা ‘বিদ্রোহ থেকে বিপ্লব’ বইটিতে ২০১৮ সালের ব্যর্থ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ২০২৪ সালের সফল ছাত্র অভ্যুত্থানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ রয়েছে। তার মতে, এ আন্দোলনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল স্মার্ট কৌশল, স্পষ্ট ভাষা, এবং সামাজিক মাধ্যমে সুসংগঠিত প্রচার। যখন এক মন্ত্রী ছাত্রদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দেন, তখন তা আন্দোলনের জন্য পরিণত হয় একটি নৈতিক যুদ্ধ ঘোষণায়। ছাত্ররা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে সরকারকে নৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে।

জুলাই আন্দোলন নিয়ে রচিত প্রথম বই (আগস্ট ২০২৪, ঢাকা: স্টুডেন্ট ওয়েজে), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজের ‘Student Protest and Hasina's Downfall in Bangladesh’ এই আন্দোলনকে একটি শাসনের পতনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বহু বছর ধরে জনগণের বিরোধিতা সহ্য করে টিকেছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া আন্দোলন থামানোর কৌশলপূর্ণ দক্ষতা সরকার দেখাতে পারেনি এবং শাসনের প্রশ্নবিদ্ধ বৈধতাকে ধরে রাখার রাজনৈতিক ও নৈতিক সামর্থ্যও প্রমাণ করতে পারেনি। দীর্ঘ বছরের শাসনকালে গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থার অবক্ষয়ের মাধ্যমে সরকার নিজেই যে নিজের শক্তির ক্ষয় ঘটিয়েছে, সর্বাত্মক পতনের মাধ্যমে সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।

জুলাইয়ের ঘটনাগুলো ডিজিটাল যুগের প্রতিরোধ আন্দোলনের এক স্থিরচিত্রস্বরূপ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলন আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয় সামনে আনে ‘ডিজিটাল প্রতিরোধ’। ‘Harnessing Facebook by Gen Z to Mobilize Masses’ শীর্ষক একটি গবেষণায় দেখা যায়, কীভাবে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছাত্রদের আন্দোলনকে সংগঠিত করতে এবং সরকারকে ঘায়েল করতে ব্যবহৃত হয়। সরাসরি কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্ব ছাড়াই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।

অন্যদিকে, ‘Monsoon Uprising in Bangladesh’ নামের গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয় কীভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভাষা ও প্রতীক ছাত্ররা ব্যবহার করে নিজেদের আন্দোলনকে একটি নৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। এ প্রতীক ও ভাষা আন্দোলনের একটি সমষ্টিগত পরিচয় তৈরি করে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দেয়।

গভীরভাবে যে বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন নয়, একটি যুগান্তকারী রূপান্তর, রাজনৈতিক পালাবদল এবং বিপ্লবাত্মক প্রচেষ্টা। ২০২৪ সালের এ ছাত্র অভ্যুত্থান প্রমাণ করে, তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব। কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে নয়, বরং এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের সংগঠিত সচেতন প্রয়াস। হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, কাঁধে ইতিহাসের ভার এবং হাতে থাকা স্মার্টফোনই ছিল তাদের প্রধান অস্ত্র।

গবেষকরা বলছেন, এ আন্দোলন হংকংয়ের ‘আম্ব্রেলা মুভমেন্ট’, ‘আরব বসন্ত’ কিংবা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনের মতোই এক বৈশ্বিক ধারার অংশ। কিন্তু এর কৌশল, ভাষা ও নেতৃত্ব ছিল পুরোপুরি দেশীয় ও স্বকীয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

আসল কথা হলো, জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণ। এ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-নতুন প্রজন্ম শুধু রাজনৈতিকভাবে সচেতন নয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সক্ষম এবং তারা আর ভয় পায় না। রাষ্ট্র যতই শক্তিশালী হোক, ইতিহাস ও হ্যাশট্যাগের শক্তি একসঙ্গে থাকলে প্রতিরোধ করা যায় না। তবে তাদের সামনের দিনগুলো নিয়ে রয়েছে দ্বিধা। মূলস্রোতের গতানুগতিক রাজনীতির সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া কেমন হবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আমরা এখনো অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি-কীভাবে তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা হবে? ডিজিটাল আন্দোলন কীভাবে টেকসই সংস্কারে রূপান্তরিত হবে? এ আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আসতে কতটুকু সফল হবে কিংবা সামনের দিনগুলোতে বিচ্যুতি এড়িয়ে কতটুকু শুদ্ধতার সঙ্গে চলমান থাকতে পারবে? এসব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন বিবেচনায় রেখেও এক বছরের স্মৃতি নিয়ে একটি বিষয় নিশ্চিতই বলা যায়-২০২৪ সালের বর্ষার ছাত্র অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, পরিবর্তন আসতে পারে হঠাৎ করেই-বিশেষত যখন ইতিহাস, প্রযুক্তি এবং নৈতিক সাহস এক বিন্দুতে মিলিত হয়; তখন পরিস্থিতি নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের পথে চলতে থাকে; ক্ষমতা বা শক্তির দাপট সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ধরনের আন্দোলন থেকেই জন্ম নেয় রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক মডেল। যদিও সামগ্রিক সাফল্য আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ও অর্জনের নিরিখে ভবিষ্যতের ইতিহাস নির্ধারণ করবে।

তবে এক বছরের মূল্যায়নে জুলাই-পরবর্তী চিত্র আশার বিস্তার ঘটিয়েছে। মাত্র এক বছর যদিও কোনো রাজনৈতিক অর্জনের জন্য যথেষ্ট সময় নয়, তথাপি একটি ভঙ্গুর ও বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরু করে জুলাইয়ের চেতনায় যে অর্জন সাধিত হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য। কারণ, প্রচণ্ড টালমাটাল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিল জুলাই-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের সামনে ছিল সমস্যার পাহাড় আর মাথার ওপর ছিল সীমাহীন প্রত্যাশার চাপ। এমন এটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনের দিকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলাও কম কৃতিত্ব নয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে রক্তের আলপনায় রচিত হয়েছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকার উৎখাতের ইতিবৃত্ত। সংগ্রামী শিক্ষার্থীরা দেওয়ালে দেওয়ালে লিখে দিয়েছিল তাদের স্বপ্নের কথামালা। পরিবর্তন আর বদলে দেওয়ার আওয়াজ উঠেছিল সর্বত্র। সর্বত্র ছিল বৈষ্যম ও ফ্যাসিবাদ মুক্তির প্রত্যাশা। অথচ তখনো সমাজ ও সরকারের বহু স্থানে লুকিয়ে ছিল ফ্যাসিবাদের দোসর ও স্বৈরতন্ত্রের প্রেতাত্মা। ছাত্র-জনতার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের গুরুদায়িত্ব নিয়ে একটি সংকুল পরিস্থিতিতে গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার।

ক্ষমতা গ্রহণের পর পতিত সরকারের গণহত্যা ও লুটপাটের বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে প্রধান লক্ষ্য করে যাত্রা শুরু হয় সরকারের, যার এক বছর পূর্তি হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এক বছরে অনেক ভালো উদ্যোগ ছিল সরকারের। কিছু উদ্যোগ সফলও হয়েছে। কিছু কাজ মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলা, আর নজিরবিহীন মব সন্ত্রাস ঢেকে দিয়েছে সরকারের এসব সাফল্যকে। এক বছরের মাথায় নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার সামনে এগিয়ে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে, হতাশা-অপ্রাপ্তির মধ্যেও সরকারের বছরপূর্তির সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করায় স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। মনে করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে অনেক ক্ষেত্রে স্থবিরতা কেটে যাবে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ সুগম হবে।

তবে, প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার প্রধানত দুটি বিষয়ে : এক. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দুই. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। এটা ঠিক, ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের নানা উদ্যোগে নিত্যপণ্যের বাজারে অনেকটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা কমেছে। তলানিতে থাকা বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন অনেকটা স্বস্তির জায়গায় উন্নীত হয়েছে।

পক্ষান্তরে, এমন সব স্বস্তির খবর ঢাকা পড়েছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা ও নজিরবিহীন মবের ঘটনা। এসব ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ’২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব বিষয়ে সরকারকে সামনের দিনগুলোতে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিবাচক শক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের স্পৃহাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আপামর মানুষের বর্তমানকে নিরাপদ এবং ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা নীতি : নতুন করে ভাবতে হবে

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা নীতি : নতুন করে ভাবতে হবে

শক্তিপূজার উৎস সন্ধানে

শক্তিপূজার উৎস সন্ধানে

মা দুর্গার আগমন

মা দুর্গার আগমন

দেবীশক্তির জাগরণ : মহালয় থেকে পূর্ণিমা

দেবীশক্তির জাগরণ : মহালয় থেকে পূর্ণিমা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম