Logo
Logo
×

Advertisement

চিত্র বিচিত্র

যে দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

যে দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি

Advertisement

জাপানের ছোট্ট দ্বীপ আওশিমা। ‘ক্যাট আইল্যান্ড’ বা বিড়ালের দ্বীপ নামে পরিচিত এই জনপদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে মানুষের তুলনায় বিড়ালের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে শুরু থেকেই এমন বিড়াল-অধ্যুষিত ছিল না দ্বীপটি। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আওশিমা পেয়েছে এই পরিচিতি।

একসময় আওশিমা ছিল মৎস্যজীবীদের বসতি। মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল দ্বীপের মানুষের জীবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেখানে প্রায় ৯০০ মানুষের বসবাস ছিল। সে সময় মাছ ধরার নৌকা ও জালে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ইঁদুর দমনের জন্য বাইরে থেকে দ্বীপে বিড়াল আনা হয়।

পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিবেশ ও খাবারের সহজলভ্যতায় দ্বীপটিতে বিড়ালের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে জীবিকার সংকট এবং উন্নত জীবনযাপনের আশায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জাপানের মূল ভূখণ্ডে চলে যান। এতে ক্রমেই কমতে থাকে মানুষের সংখ্যা। একপর্যায়ে দ্বীপটিতে মানুষের তুলনায় বিড়ালের আধিক্য তৈরি হয়।

আওশিমার এই চিত্র শুধু বিড়ালের আধিক্যের গল্প নয়; এটি জাপানের প্রত্যন্ত গ্রাম ও ছোট দ্বীপগুলোর জনসংখ্যা সংকটেরও প্রতিফলন। কাজ ও শিক্ষার সুযোগ খুঁজতে তরুণেরা শহরমুখী হওয়ায় এসব এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের অনুপাত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আওশিমার বিড়ালদের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জাপানের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক এখানে আসেন। দ্বীপের ঘাট, বাড়ির আঙিনা কিংবা পথঘাটে অবাধে ঘুরে বেড়ানো বিড়ালগুলোই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। মানুষের উপস্থিতিতে কিছু বিড়াল কাছে এগিয়ে আসে, আবার কিছু নিজেদের মতোই ঘুরে বেড়ায়।

বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ

বিড়ালের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে দ্বীপটিতে ব্যাপকভাবে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালু করা হয়। এর ফলে নতুন বিড়ালছানার জন্ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

একসময় প্রায় ২০০ বিড়ালের বসবাস ছিল আওশিমায়। বর্তমানে সেখানে আনুমানিক ৮০টি বিড়াল টিকে আছে। তাদের বড় একটি অংশই বয়স্ক।

দ্বীপের অবশিষ্ট বিড়ালগুলোর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মধ্যে নাওকো কামিমোতো অন্যতম। বয়স বাড়লেও তিনি ও তার স্বামী নিয়মিত বিড়ালগুলোকে খাবার দেন। কোনো বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থাও করেন তারা।

মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া আর বিড়ালের আধিক্য—এই দুই পরিবর্তন মিলেই আওশিমাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। তবে দ্বীপটির বর্তমান চিত্রের আড়ালে রয়েছে জাপানের গ্রামীণ জনপদগুলোর জনসংখ্যা হ্রাস, বয়স্ক মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনধারা টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জের গল্প।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ব্যাগের চেনে ‘YKK’ লেখা থাকে কেন? কারণ জানলে অবাক হবেন

ব্যাগের চেনে ‘YKK’ লেখা থাকে কেন? কারণ জানলে অবাক হবেন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপানের মারুবেনি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপানের মারুবেনি

জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ২০ লাখ ইয়েন

জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ২০ লাখ ইয়েন

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে জাপানে জোড়া ভূমিকম্প

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে জাপানে জোড়া ভূমিকম্প

মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা

জাপানে নারী হত্যা মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ বাংলাদেশে গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে

আরও পড়ুন

ব্যাগের চেনে ‘YKK’ লেখা থাকে কেন? কারণ জানলে অবাক হবেন

ব্যাগের চেনে ‘YKK’ লেখা থাকে কেন? কারণ জানলে অবাক হবেন

বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য

বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য

ফাঁসির রায় লিখেই কলমের নিব ভাঙেন বিচারক, কেন এমন রীতি?

ফাঁসির রায় লিখেই কলমের নিব ভাঙেন বিচারক, কেন এমন রীতি?

বৃদ্ধ মা-বাবাকে সময় দিতে চাকরি ছাড়লেন মাইক্রোসফট কর্মকর্তা

বৃদ্ধ মা-বাবাকে সময় দিতে চাকরি ছাড়লেন মাইক্রোসফট কর্মকর্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম