জাপানে নারী হত্যা
মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
জাপানের ওকিনাওয়ায় এক জাপানি নারীকে হত্যার প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ধরে আছেন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন এক মেরিন সেনা গ্রেপ্তার এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাদের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সব সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী আন্না ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ওই নারীকে হত্যার পর তার মানিব্যাগ ও ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াগির মৃত্যু শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যালার্ড তার গলায় চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। হোটেলের কর্মীরা গত শনিবার ভোরে ওই নারীকে কক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। নির্ধারিত সময়েও তিনি হোটেল থেকে বের না হওয়ায় কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
ঘটনার পর প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অভিযানে নামে। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে এক ব্যক্তিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ঘটনাটি ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে আবারও সামনে এনেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে বা কমাতে পারে। সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জোটের শক্তি ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রভাবিত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি হত্যাকাণ্ডটিকে ‘অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ হয়েছে। ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বেশিরভাগই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এ ক্ষোভকে আরও বাড়িয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

-6ac5c5f5a20f8.jpg)
-6ac5c507a0d89.jpg)