Logo
Logo
×

Advertisement

দৃষ্টিপাত

অঙ্গ কাটা কী একমাত্র সমাধান?

Advertisement

Icon

রাজীব কুমার দাশ

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫০ পিএম

অঙ্গ কাটা কী একমাত্র সমাধান?

Advertisement

আমি এমনিতে বিভিন্ন মানসিক উৎপীড়নে আছি। আগেই বলেছি, সবাই যখন গভীর ঘুমের ঘুমপাড়ানি গান গায়, আমি তখন রাতের সঙ্গে জীবনের গল্প গান ভাগাভাগি করি।

প্রতিদিন ধ্যানী ছিন্নমস্তার রাতের বুক চিড়ে কতজন স্বার্থান্ধ ভণ্ড শেয়াল কুকুর বেড়াল দিবসের আলোতে মুখ লুকায়; তা ঘুমকাতুরে ঈশ্বর সুখিজনের অজানা বিষয়। রাতের পাষণ্ডদের যেমন- পরম 'যোগমায়া রাত্রি' দিবসের আলোতে এখনো চিনতে পারেননি; সে রকমের আমিও চিনতে পারিনি এখনো ব-দ্বীপের আপন পর। তাই রাত  যতোই গভীর হয়- ‘রাত্রি মাতার কষ্ট আমারে আপন করিয়া লয়’।

লেখালেখি গুরুমুখী বিদ্যা হলেও আমি বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র গুরু ছাড়া হতচ্ছাড়া বর্তমান সময়ের শিষ্য-কষ্টের একলব্য।

‘একলব্য’ স্বার্থান্ধ গুরু দ্রোণের শিষ্য হতে পারেননি! এমন কী অস্ত্র  বিদ্যার অধিকারেও নিষাদ হওয়ায় যাচ্ছেতাই অপমান ভোগ করতে হয়েছে তাকে; তবুও একলব্য দমে যাননি। দ্বিগুণ অধ্যবসায় কঠোর সাধনায় স্বল্প সময়ে গুরু দ্রোণের শিষ্যদের ছাড়িয়ে গেছেন।

সে সময়ের একলব্যের মতো বোকা কাজটা করতে আমি এ সময়ে কখনো রাজী হইনি। ‘একলব্য’ গুরুদক্ষিণা দিতে গিয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল কাটতে হয়েছে। জানি না ব-দ্বীপের স্বার্থান্ধ দ্রোণ বেহিসেবী গুরুদের দক্ষিণা দিতে গিয়ে আমার কী হারাতে হতো!
ব-দ্বীপের নেড়িকুত্তা পতিতাদের আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন; কিন্তু গুরু দ্রোণের মতো মাতা-পিতা গুরু, সুফি সাধক, স্ত্রী পুত্র কন্যা আপনি বিশ্বাস করছেন তো মরার আগেই মরে গেছেন।

গুরু দ্রোণ দক্ষিণা চেয়ে নিয়েছেন, জোরাজুরি করতে হয়নি। কিন্তু এখন গুরুদক্ষিণা না চেয়েও জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে শরীরের অসংখ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কসাই মাতা- পিতা প্রেয়সী দ্রোণ।

সে কালের একলব্য ডান হাতের বুড়ো আঙুল হারিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও এ কালের ঘরে বাইরের অসংখ্য স্বার্থান্ধ গুরু দ্রোণদের হাত থেকে কারোর রেহাই মিলছে না। বেঘোরে হাত পা মস্তক হারিয়ে বেঘোরে বিসর্জন দিচ্ছে প্রাণ; চিরতরে পুরুষাঙ্গ হারিয়ে দিবানিশি হারিয়েছে জীবনের ঘ্রাণ।

যারা পুরুষাঙ্গ কেটেছে, তারা কিন্তু বিকৃত রুচির তথাকথিত ফেমিনিস্ট দলের কেউ নয়। তাদের কেউ-কেউ বউ, প্রেমিক আপনজন। কেউ থেকে গেছেন-অধরা পরামর্শ দাতা সিদ্ধহস্তে এ সময়ের গুরু দ্রোণ।

পরকীয়া জুজুর ভয় দোহাই দিয়ে শুধু বছরখানেকের মধ্যে কেটে কেড়ে নেওয়া হয়েছে অসংখ্যজনের পুরুষাঙ্গ। ভয়ঙ্কর অপসংস্কৃতির কারণে বিষাক্ত করা হয়েছে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক, সহজাত পারিবারিক অটুট বন্ধন।

বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। ভয়ঙ্কর পেনিস কেটে নেওয়া বাঙালি ভয়ঙ্কর অপসংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে বেধড়ক হাসির খোরাক এখন। রসিকতাপূর্ণ সংলাপে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’র সীমান্ত পেরিয়ে সারাবিশ্বে ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এখন।

আমার ধারণা, দেশি-বিদেশি রেস্টুরেন্ট, পানশালা, হোটেল ক্যাফেটেরিয়া, মুদিদোকান, অন্দরমহল, বালাখানা, নাসা ইসরো মহাকাশ স্টেশন হয়ে এমন কোনো জায়গা বাকি নেই যেখানে দেখেনি; দুর্বোধ্য বাঙালি ভয়ঙ্কর নতুন অপসংস্কৃতি পুংদণ্ডের নিথর শব দর্শন।

আমি আশ্চর্য হচ্ছি— এ দেশে আইন প্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী, ফেমিনিস্ট বুদ্ধিজীবী, কবি-লেখক, ঔপন্যাসিক, সমাজকর্মী, নাট্য ব্যক্তিত্ব, মুখে সচেতন মার্কা খই ফোটা নাগরিকের অভাব নেই। কিন্তু কারও মুখে এ কৈতব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি কথাও বলতে শুনিনি।

মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে; বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হবে টেস্টোস্টেরন-ইস্ট্রোজন প্রকৃতির নিয়ম। শুধুমাত্র পারিবারিক কলহ পরকীয়া দোহাই দিয়ে পুরুষাঙ্গ কাটবে- এ কেমন কথা?

আমার দৃষ্টিকোণ থেকে- এ ধরনের অমানবিক অমার্জনীয় একটি অপরাধ, ভয়ঙ্কর লিঙ্গ ব্যবচ্ছেদ সমতা সন্ত্রাস; যা একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের ভিকটিম সমাজের উপহাস কটূক্তি নিয়ে বৃহন্নলা জীবনের চেয়ে ও মরা-বাঁচা জীবন নিয়ে বাঁচতে হবে; যা সমাজের জন্য একটি সভ্য জাতির জন্য আগাম একটি অমর্যাদাকর অশনিসঙ্কেত।

একটি স্থিতিশীল মর্যাদাবান জাতীয় চেতনা সমৃদ্ধ সমাজ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আমাদের বসবাসের সুযোগ নেই। ধনবান বলবান সুশীল-কুশীল জমিদার চোর ডাকাত কথিত নিষাদ ভিক্ষুক সবাই যাপিত জীবনের সহযাত্রী।

আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার করছি। জাতির পিতার অবদান, জাতীয় চেতনা প্রশ্নে- এখনো কেউ-কেউ চরম উদাসীন, সরব নীরবে ঘেউ ঘেউ করেন, স্বার্থান্ধ ভোলামনে থাকতে পছন্দ করেন! যা- একটি জাতির জন্য মারাত্মক গোঁদের উপর বিষফোঁড়া।

দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রে কালিমা লেপন করতে অন্ধকূপ হত্যা নাটক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের পূর্বে ‘ফুড কোর সাবোটাজ’ কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের দহন নাটকের পরিচালক স্ক্রিপ্ট রাইটার
নায়ক-নায়িকা কলাকুশলী নীরবে সমাজকে অস্থিতিশীল করতে এখনো বসে আছে।

প্রতিদিন বাসন্তীর গায়ে জাল পরিয়ে দেওয়া নাটকের মতো, নতুন নাটক বানিয়ে রাষ্ট্রের কৃত্রিম ইমেজ সংকট তৈরি করছে কিনা, তা প্রতিমুহূর্তে জানা অনেক প্রয়োজন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।
মেইল: [email protected]

Advertisement

মানসিক উৎপীড়ন শিষ্য-কষ্টের একলব্য

Advertisement

আরও পড়ুন

ইরানের মিত্র নাকি নিজস্ব স্বার্থে চলে হুথিরা

ইরানের মিত্র নাকি নিজস্ব স্বার্থে চলে হুথিরা

ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে কী অর্জন করল আওয়ামী লীগ?

ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে কী অর্জন করল আওয়ামী লীগ?

অন্যমত স্থবির শেয়ারবাজারকে টেনে তুলতে যা প্রয়োজন

স্থবির শেয়ারবাজারকে টেনে তুলতে যা প্রয়োজন

কোরামিন দিয়ে ফ্যাসিস্টের পুনরুত্থানের চেষ্টা

কোরামিন দিয়ে ফ্যাসিস্টের পুনরুত্থানের চেষ্টা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম