logo
বিল্ড বাংলাদেশের সেমিনারে বক্তারা
বিনিয়োগের সুবিধা গরিবের কাছে পৌঁছানো জরুরি
    |    
প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
পরিবেশ ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সার্বিকভাবে বিনিয়োগের সুবিধা যাতে দেশের গরিব মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বিল্ড বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। সংগঠনের অ্যাডভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ফাইন্যান্স ও প্রভার্টি গ্রুপের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কেয়ার এন্টারপ্রাইজের পার্টনার মারিলিয়া বেজেরা।
গওহর রিজভী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য, সমাজ ও পরিবেশগত উন্নয়ন জরুরি। ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা যাতে সমাজের সব মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্রদের আয় বৈষম্য আরও কমানো জরুরি। বিশেষ করে এ খাতে যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। তিনি বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এজন্য স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সারা দেশে ৯ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গ্রামের মানুষ এখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছে। এটি সরকারের বিশাল অর্জন। তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার প্রতিনিয়ত কমছে। বর্তমানে দেশে মোট দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ। কিন্তু প্রকৃত দরিদ্র ১০ শতাংশ। যদিও এটি আরও কম থাকা উচিত।
জানা গেছে, বিশ্বে বিনিয়োগের একটি নতুন ধারণা হল ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট। ২০০৭ সালে প্রথম ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট নামের এ ধারণাটি চালু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান রকফেলার ফাউন্ডেশন। গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট নেটওয়ার্কের (জিআইআইএন) সংজ্ঞা অনুযায়ী, ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে কোনো কোম্পানি, সংগঠন এবং তহবিলের পক্ষ থেকে ওই ধরনের বিনিয়োগ, যেগুলোর মাধ্যমে আর্থিকভাবে মুনাফা অর্জনের চেয়ে সমাজ ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টিকে বেশি বিবেচনায় রাখা হয়। মঙ্গলবারের সেমিনারে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টমেন্টের মতো বিষয়টি কার্যকর করা কঠিন। কারণ যারা বিনিয়োগ করেন তারা সব সময় আর্থিক রিটার্নের বিষয়টি মাথায় রাখেন। নতুন উদ্যোক্তারা এ বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেয়।