হেভিওয়েট সালাহউদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অপরিচিত মুখ ফারুখ
মো. শাহ জামাল, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
সালাহউদ্দিন আহমদ ও আবদুল্লাহ আল ফারুখ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের চারটি আসন। অতীতে জোটবদ্ধ নির্বাচনে জেলার প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের আধিপত্য ছিল। তবে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এবার উভয় দলই নিজেদের প্রতিপক্ষ।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ১৯৯৬ সাল থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি। সালাহউদ্দিনের অনুপস্থিতিতে ২০০৮ সালে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ তার চেয়ে বেশি ভোঠের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন।
এছাড়া কক্সবাজারের ৪টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত মিলে স্বাধীনতার পর একমাত্র মন্ত্রিত্ব পাওয়া নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। বলা হয়ে থাকে, তিনি ওই আসনের সাধারণ মানুষের পরীক্ষিত নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে তার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ। তিনি কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির। চকরিয়া-পেকুয়ার জন্য নতুন মুখ তিনি। তবে ভোটের মাঠে তিনি শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করছেন বলে দাবি জামায়াতের।
মঙ্গলবার থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। দুজনই সাধারণ ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দিনশেষে সাধারণ ভোটাররা সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি অনেকটা আস্থাশীল। কারণ তিনি নির্বাচিত হলে তার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি সহজেই বাস্তবায়ন করেন।
সারা দেশের মতো চকরিয়া-পেকুয়ার চা দোকানের আলোচনার বিষয় নির্বাচন। জয়-পরাজয়ে কে কতদূর। তবে সবক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে সালাহউদ্দিন। স্থানীয়রা বলছেন, ওই এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুর উন্নয়ন এবং সংস্কারে সবার চেয়ে এগিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ।
পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের এক জামায়াত কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমাদের এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী অপরিচিত। তাকে কেউ কখনো দেখেননি। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন ভরপুর উন্নয়ন করেছেন। এ কারণে বেশ জনপ্রিয় তিনি। এছাড়া আসনের দুর্গম এলাকায় বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও তৈরি করেছেন তিনি। এসব কারণে এলাকার উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমদকেই মানুষ চাইছেন।
চকরিয়া পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত হোছাইন বলেন, আমরা জন্মের পর দেখেছি আসনের বেশকিছু সড়কে হাঁটু সমান কাদা পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি হওয়ার পর এসব রাস্তা সংস্কার করে পাকা করেছেন। এখন এই এলাকার মানুষ শহরে থাকার সুবিধা ভোগ করেন।
বুধবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, আমি ধানের শীষের প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হয়েছি। এ দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, অগ্রগতির স্বার্থে, সমৃদ্ধি এবং সুশাসনের স্বার্থে আমাকে আপনারা দয়া করে আপনাদের মূল্যবান ভোটটি ধানের শীষে দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
একইদিন সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় আবদুল্লাহ আল ফারুখ চকরিয়া-পেকুয়ার জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে একটি সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য দলে দলে ভোটকেন্দ্রে আসুন। সব বাধা উপেক্ষা করে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় রায় প্রদান করুন। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, আপনাদের সঙ্গেই থাকব।
সালাহউদ্দিন আহমদ সর্বশেষ ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পান যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে জেলার প্রথমমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই যুগ পর অনেকটা মৃত্যুর গুহা থেকে ফিরে ভোটের মাঠে এসে আবারও সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চকরিয়া-পেকুয়ার প্রতিটি ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেছেন, দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এ আসনে এবারের ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৫ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ জন।
