যেভাবে পরিকল্পনা করে জঙ্গলে নেওয়া হয় অপ্রতিমকে
Advertisement
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইফোনের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। এজন্য তাকে মেসেঞ্জারে ডেকে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিমকে কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে দেখা যায়। পরে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তাকে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় তুহিন।
সিসিটিভি ফুটেজে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে সানন্দা এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়। পরে অন্য পথ দিয়ে আরও কয়েকজন ওই এলাকার জঙ্গলের দিকে যায়।
পুলিশের ভাষ্য, সানন্দার পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিনসহ কয়েকজন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনটি নিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমকে হত্যার পেছনে প্রাথমিকভাবে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার সাধারণ শোক দিবস পালন করা হয়। স্থগিত রাখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাশ ও পরীক্ষা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম ও বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
