সংগীত বিভাগের শিক্ষক হলেন আইন অনুষদের ডিন
Advertisement
জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ এএম
অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। আইন ও বিচার বিভাগে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন বিভাগের একজন অধ্যাপককে এ দায়িত্ব দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। তার পরিবর্তে অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে দুবছরের জন্য ডিন নিয়োগ করবেন। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে ওই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপকও ডিন হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদে ডিন থাকতে পারবেন না। তবে ডিন নিয়োগের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে থাকায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রচলিত ধারার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ প্রশাসনের রয়েছে।
এমন বিধান থাকার পরও আইন অনুষদের বাইরে থেকে ডিন নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আইন শিক্ষা শুধু একাডেমিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পেশাগত প্রস্তুতি, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও অনুষদের ডিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভাগের অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকের হাতে ডিনের দায়িত্ব থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে একই সঙ্গে একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করায় নতুন ডিনের ওপর কাজের চাপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগটি বর্তমানে প্রায় সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী এর আগে পরিবহণ প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ডিন, পরিবহণ প্রশাসক ও শিক্ষক—তিনটি দায়িত্ব সঙ্গে পালন করলে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পরিবহণসেবা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। তাদের মতে, তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষ শিক্ষক হলেও আইন শিক্ষার বিশেষায়িত ধরন বিবেচনায় আইন ও বিচার বিভাগের কোনো যোগ্য শিক্ষককে অনুষদের নেতৃত্বে রাখা হলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হতে পারেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে ডিন করা হয়। অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আইন বিভাগ থেকে যাকে ডিন করা যায়, তাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ কারণে সমালোচনা এড়াতে আপাতত অন্য বিভাগের অধ্যাপককে ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্য বিভাগের শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগে আইন ও বিচার বিভাগ কলা অনুষদের অধীনে ছিল। পরবর্তী সময়ে পৃথক আইন অনুষদ গঠন করা হয়েছে। ডিনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের শিক্ষকই হতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নবনিযুক্ত ডিন সম্পর্কে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী যথেষ্ট শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শান্তশিষ্ট শিক্ষক।

