নিরঞ্জনকে হত্যার পর ড্রামে ভরে স্লুইসগেটে ফেলে দেন শামীম
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
শামীম মিয়া গেফতার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় ড্রামে ভর্তি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহতের নাম নিরঞ্জন ধর। তাকে হত্যার পর চটের বস্তায় বেঁধে চালের ড্রামে ভরে ইজিবাইকে করে নিয়ে স্লুইসগেট এলাকায় পানিতে ফেলে দেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার দুপুরে নগরীর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকা থেকে নিরঞ্জন ধর (৫৪) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা ধর বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
নিরঞ্জন নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি আঠারবাড়ি রোডের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন শামীম। তিনি জানান, নিহত নিরঞ্জনের চারটি অটোরিকশা নগরীর খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো। শামীম ওই গ্যারেজের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করায় নিরঞ্জনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ কারণে নিরঞ্জনের শামীমের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
পিবিআই জানায়, পরিবারের সদস্যরা বাসায় না থাকলে শামীম খাগডহর এলাকার ভাড়া বাসায় এক মেয়েকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিন নিরঞ্জন ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন শামীম।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীম বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় নিরঞ্জন সেখানে গিয়ে আবার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হলে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। এতে নিরঞ্জন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে শামীম তার মুখে কাপড় গুঁজে দেন এবং বটি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
হত্যার পর শামীম লাশটি চটের বস্তায় বেঁধে একটি চালের ড্রামের ভেতর রাখেন। পরদিন রাতে লাশটি ইজিবাইকে করে বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে আসেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
পিবিআই আরও জানায়, শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
