নান্দাইলে
অগ্রণী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রাহকদের আহাজারি
Advertisement
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
নান্দাইল উপজেলার শিয়ালধরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট বন্ধ রয়েছে। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শিয়ালধরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং (অগ্রণী দুয়ারি ব্যাংকিং) আউটলেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও লেনদেন চালু রেখে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ১৬ জন গ্রাহক তাদের সঞ্চিত আমানত ফেরত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে চালু হওয়া এই আউটলেটটি ২০২৫ সালের জুন মাসে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। তবে বন্ধের তথ্য গোপন রেখে এবং ব্যাংকের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখে পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা প্রতারণার মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যান। আমানতকারী ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স জমা রাখার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রও বিক্রি করা হয়। এতে উপজেলার হাজারো প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা তাদের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকা হারিয়ে এখন দিশেহারা।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহারে ২৪ লাখ টাকা, জাহাঙ্গীরের ১৪ লাখ টাকা এবং পারুল আক্তারের ২০ লাখ টাকাসহ অনেকের সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের টাকা উধাও হয়ে গেছে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে পরিচালকের মারমুখী আচরণ ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত আউটলেট পরিচালক শেখ মাজহারুল ইসলাম মিজান আত্মসাতের কথা অস্বীকার করে সাবেক ব্যবস্থাপক সোহেলের ওপর দায় চাপালেও, সোহেল বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন।
অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের কালীগঞ্জ বাজার শাখা ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান আউটলেট বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আর এজেন্ট শাখায় কোনো সঞ্চয়পত্র খোলার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান, অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে ডাকা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রয়োজনীয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

