চুয়েট আন্দোলন
একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
শ্বেতশাড়িতে লেখনী ও চিত্রকর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলছেন সাবেক উপাচার্যের বিভিন্ন সফল কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বাহালের আন্দোলন সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আজও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। সরেজমিন দেখা যায়, সোমবার সকাল ১০টা থেকেই মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
৫৬ দিনে উপাচার্য অপসারণ, আর সেই ‘৫৬’ সংখ্যাকে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন শিক্ষার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধান ফটক আটকে এদিন সকালে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করা হয়। এছাড়াও তারা শ্বেতশাড়িতে লেখনী ও চিত্রকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন অধ্যাপক ড. সায়েমের সফল কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এর পাশাপাশি সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘটে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বেশ কিছু গণমাধ্যমে খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিচ্ছিন্ন অডিও প্রচারের অভিযোগ তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যমে একটি কথা প্রচারিত হয়েছে যে শিক্ষকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক আন্দোলনে নিয়ে এসেছেন, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানাতে চাই, তারা যেন আমাদের সঙ্গে সংলাপে বসে। আমরা চাই না আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের একটি দিনও নষ্ট হোক। তাই উপরমহলের কাছে অনুরোধ, আমাদের এই সমস্যাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হোক।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সংলাপে বসার আহ্বান পাইনি। সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো অংশীজন যেমন— ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা আচার্যের দপ্তর কোনো পক্ষ থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
নতুন উপাচার্যের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।
এছাড়াও সোমবার রাত ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল এর ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগের প্রতিবাদে এ মিছিল আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় তারা।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফাঁকা পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও শ্রেণিকক্ষগুলো। কবে নাগাদ এসব একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২১ সেপ্টেম্বর এর পর উপাচার্য ভবনের দরজাতে এখনও ঝুলছে তালা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও থমকে গেছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি প্রসঙ্গে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আগেও সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নিয়েছি। যেমন ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের দুটি ব্যাচ আমরা একসঙ্গে চালিয়েছি। বর্তমানে সংকটটি এতটা দীর্ঘমেয়াদি নয়। আমাদের আশা ছিল, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ বছরই পাশ করে বিদায় নেবে। তবে সংকটময় পরিস্থিতির কারণে হয়তো তারা আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে পাশ করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট। কোভিড পরবর্তী সময়ও আমরা শুক্র ও শনিবার ক্লাস নিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছি।’
এদিকে নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে রোববার রাতেও প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে কার্ড খেলা, ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠেন তারা। আবার অনেকে ল্যাপটপ নিয়ে আসর বসিয়েছিলেন অনলাইন ফুটবল গেমের। কেউ কেউ বাঁশি আর গিটারে তুলছিলেন সুর।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাঈন মিহাদ বলেন, ‘আমরা নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ তৎপর। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দলোন চলবে।’
