Logo
Logo
×
   

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

নতুন উপাচার্যের যোগদান, অচলাবস্থা বাড়ছে চুয়েটে

Advertisement

Icon

চুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

নতুন উপাচার্যের যোগদান, অচলাবস্থা বাড়ছে চুয়েটে

ছবি: যুগান্তর

Advertisement

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে যোগদান করেছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান এবং চুয়েটের উপাচার্য পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমি যোগদান করেছি। যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাসচিব যোগদানপত্র পেয়েছেন বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

জরুরি সভার সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়, সমিতির সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষক সমিতি।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসানউল্লাহ বলেন, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমগুলো চালু থাকবে।

একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট কর্মকর্তা সমিতিও। ২৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ (শুক্রবার) এ সংক্রান্ত প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নতির লক্ষ্যে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, চুয়েট ছাত্রদের যৌক্তিক অবস্থান ও দাবির প্রতি এবং চুয়েট শিক্ষক সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি একাগ্রতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জরুরি সেবা কার্যক্রম এর আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে আজও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে দুপুর ২টায় মিছিলটি শুরু হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এছাড়াও বিকাল ৫টা থেকে শুরু হয় দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি কর্মসূচি।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, গতকাল আমরা জেনেছি উপাচার্য পদে অধ্যাপক শরীফুল যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই তাকে উপাচার্য পদে চাই না। তার প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি। 

শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কীভাবে কাজ করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যদি ১% সংকটও থাকে আমরা সেই জায়গাগুলি অ্যাড্রেস করছি। সিনিয়র, জুনিয়র এবং মিড লেভেলের শিক্ষক অনেকেই যোগাযোগ করছেন। সবাই মিলে আমরা একটি ইনক্লুসিভ বেটার ক্যাম্পাস তৈরি করতে চাচ্ছি। এটির সঙ্গে অনেকেই একমত, বিশেষ করে আমরা যারা ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে ছিলাম এবং আছি।

তিনি বলেন, এটি আমারও ক্যাম্পাস, আমি এখানে অনেক আগে ছাত্র ছিলাম এবং আমি বিভিন্ন কমিটিতে অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবে এখানে আছি। এখানে অনেক বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ আছে। তারা এবং তাদের বাইরেও অনেক শিক্ষক যোগাযোগ করেছেন। তারা সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করছেন।

রোববার থেকে কর্মস্থলে যোগ দেবেন কিনা- এ বিষয়ে নতুন উপাচার্য বলেন, খুব দ্রুতই কিংবা এর আগেও হতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম