আলিমে দারুননাজাতের অভাবনীয় সাফল্য, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯২ শিক্ষার্থী
Advertisement
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে রাজধানীর দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৩০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ২৯১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯২ জন। সে হিসাবে পাশের হার ৯৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর এ সাফল্য প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সারা দেশে পাশের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। জাতীয় গড় পাশের হারের তুলনায় দারুননাজাতের পাশের হার ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ৫৯২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবারের ফলাফলে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
দারুননাজাতের এবারের সাফল্য কেবল সামগ্রিক ফলাফলের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখার ফলেও রয়েছে উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর। চারটি শাখার মধ্যে দারুননাজাত তাখসিসি শাখা ও দারুননাজাত মাদ্রাসা কিতাব বিভাগে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাখসিসি শাখায় ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন, যা এ শাখার মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কিতাব বিভাগের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। মহিলা শাখার ফলও সন্তোষজনক। এ শাখায় ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের সামগ্রিক চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৪ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭ জন। অন্যদিকে, সাধারণ বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৫০৫ জন শিক্ষার্থী।
দেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মাদ্রাসার ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলেও দারুননাজাতের সাফল্যের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার যাত্রাবাড়ী, টঙ্গী ও মহিলা শাখার সম্মিলিত ফলাফলে পাশের হার ৯৭ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার পাশের হার ৯৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সে তুলনায় দারুননাজাতের পাশের হার ৯৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।
অনুত্তীর্ণের হারও প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। বিপরীতে তামিরুল মিল্লাতের উল্লিখিত তিন শাখার সম্মিলিত অনুত্তীর্ণের হার ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার ২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির এ সাফল্যের পেছনে দীর্ঘদিনের শিক্ষাচর্চা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আ. খ. ম. আবু বকর সিদ্দীক।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, দলীয় রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে সুন্নতে নববীর পূর্ণ অনুসরণ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত আদর্শ ধারণ করে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি বলেন, দ্বীনি পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, গভর্নিং বডির দক্ষ পরিচালনা, এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, শিক্ষকদের কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত—সব মিলিয়েই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা এবং সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

