এইচএসসিতে রাজউক কলেজের ঈর্ষণীয় ফল, শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব দিলেন অধ্যক্ষ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তাদেরই দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী রেজা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। শিক্ষকরা কেবল দায়িত্ববোধ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে কলেজ ক্যাম্পাসে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ জানান, এ বছর কলেজটি থেকে ১ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৬২৬ জন। সে হিসাবে পাশের হার ৯৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮২৯ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন ১ হাজার ১২৪ জন। এ বিভাগে পাশের হার ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮১ জন। এ বিভাগে পাশের হার ৯৯ দশমিক ২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন ১২১ জন। পাশের হার ৯৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ১৩ শতাংশ।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়ে অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘এই সাফল্যের মূল ভাগীদার ও কৃতিত্বের অধিকারী আমাদের শিক্ষার্থীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা শুধু আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেছি এবং তাদের গাইডলাইন দিয়েছি। কষ্টের ফসলটা তাদের, কৃতিত্বও শুধু তাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র হচ্ছে মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা। এই সাফল্য তাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষার পথে একটি ধাপ। আমি তাদের উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করছি। ভবিষ্যতে তারা যেন আরও ভালো করতে পারে, সে জন্য সবার প্রতি শুভকামনা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।’
এদিকে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তার মতে, সবাই ভালো ফল করবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে একসময় সফলতা আসবেই।
তিনি বলেন, ‘যারা কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে পারেনি, তাদের বলব, চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জীবন এখানেই থেমে থাকে না। সামনে আরও অনেক পরীক্ষা রয়েছে। সেগুলোতে ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। এবারের ফলাফল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে অবশ্যই ভালো করবে।’
গত দুই বছরের তুলনায় এবার কলেজের পাসের হার কমেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ফলাফল প্রকাশের পরপরই এ বিষয়ে তুলনামূলক চিত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। আগের বছরগুলোর ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার মান ও প্রশ্নের ধরনের ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে। ফলে বছরভেদে ফলাফলে পার্থক্য থাকতে পারে। আগের বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে কলেজের অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফলাফলে কোনো ভুলের প্রভাব পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, কিছুটা প্রভাব পড়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য দিচ্ছে।

