ডিসেম্বরে নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ অর্থ বরাদ্দে মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই নতুন স্কেলে বেতন পেতে পারেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক চীনে অবস্থানকালে অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তার উদ্যোগে ডিসেম্বর থেকে নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন দিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন অর্থ সচিব। এখন আনুষ্ঠানিকতা শেষে সম্মতিপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে। চলতি মাসের মধ্যেই চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ডিসেম্বরেই নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিসেম্বরেই যেন শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলে বেতন পান, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর থেকেই নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে। তবে কোনো কারণে সেটি সম্ভব না হলে জানুয়ারি মাস থেকে শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অর্থ বিভাগের কাছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ছয় মাসের বকেয়সহ ১২ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য এ অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ছয় মাসের বকেয়সহ ১২ মাসের হিসাব বিবরণী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠায়। পরে ওই বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়।
মাউশির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতার হিসাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ থেকে জুন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
হিসাব বিবরণীতে বলা হয়েছে, ছয় মাসের বকেয়সহ আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেতনে ২ হাজার ২৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৮১৯ টাকা এবং ভাতায় ২৭৫ কোটি ৬০ লাখ ১২ হাজার ৩৬ টাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা লাগবে।
অন্যদিকে বেসরকারি কলেজগুলোর বেতনে ৬৬৫ কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫১১ টাকা এবং ভাতায় ৭১ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯০ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ খাতে মোট অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা।
সব মিলিয়ে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত রোববার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সারাদেশের শিক্ষকদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ এবং সার্বিক পরিষেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বাজেটের বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
