বেরিয়ে এলো অটোচালক জনি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য
Advertisement
সবুজবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর কদমতলীর জুরাইন এলাকায় অটোরিকশাচালক মো. জনি (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের সময় এক পথচারীকে ছুরিকাঘাত করতে গিয়ে সহযোগীর আঘাতে নিহত হন জনি। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এসএম মোস্তাইন হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মেহেদী হাসান বাপ্পি (২৮) ও মো. নুর আলম বারেক (২৪)। তাদের দুজনের বাড়িই রাজধানীর কদমতলী এলাকায়।
পিবিআই কর্মকর্তা এসএম মোস্তাইন হোসেন জানান, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে জুরাইনের মোক্তার হোসেন সড়কে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেন। এ সময় দুই পথচারীর গতিরোধ করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেন তারা।
ছিনতাই শেষে পালানোর সময় এক পথচারী জনিকে ধরে ফেলেন। এ সময় জনিকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগী মেহেদী হাসান বাপ্পি ওই পথচারীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু ছুরিটি পথচারীর পরিবর্তে জনির বুকে বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হন জনি। পরে তাকে ফেলে ছিনতাই করা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান তার দুই সহযোগী।
পিবিআই জানায়, ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ জনিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ।
এসএম মোস্তাইন হোসেন আরও জানান, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবার দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ীতা দাসের সার্বিক সহযোগিতায় পরিদর্শক সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আমিরুল ইসলাম মীরসহ একটি দল তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে জুরাইন বরইতলী রেললাইন এলাকা থেকে মেহেদী হাসান বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে জুরাইনের নোয়াখাইল্যাপট্টি এলাকা থেকে নুর আলম বারেককে গ্রেফতার করে পিবিআই।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা একটি মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেফতার দুজনই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাদের মধ্যে মেহেদী হাসান বাপ্পি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেফতার মেহেদী হাসান বাপ্পির বিরুদ্ধে রাজধানীর শ্যামপুর, কদমতলী ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় চারটি মামলা রয়েছে। অপর আসামি নুর আলম বারেকের বিরুদ্ধেও কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

