যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে এসে নিখোঁজ প্রবাসী, ৩ দাবি মেয়ের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হারুনুর রশীদের পরিবার (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হারুনুর রশীদ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আমেরিকা থেকে এসে এখনো বাসায় ফেরেননি জানিয়ে পরিবার বলছে, দীর্ঘ এক মাস ধরে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। অবিলম্বে হারুনুর রশিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবার।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে নিখোঁজ প্রবাসীর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ হারুনুর রশীদের বড় মেয়ে রিতা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী শরিফা খানমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লিখিত বক্তব্যে রিতা আক্তার জানান, তাদের পরিবার ২০১৫ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছে। পারিবারিক কাজ ও ছুটির সুবাদে হারুনুর রশীদ নিয়মিত বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতেন এবং ডেমরার মুসলিমনগর কিংবা কুমিল্লার চান্দিনা থানার মিরাখলা গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করতেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি বা আইনি সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে কিছু ব্যক্তিকে হারুনুর রশীদকে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় শাহীদা আক্তার সাথী, মো. সাগর, রুসি আক্তার এবং কুমিল্লায় জমি-জমা সংক্রান্ত লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত শাহ আলম ও শিরিনা আক্তার নামের ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানানো হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বরের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে তদন্ত করলে রহস্য উদ্ঘাটিত হতে পারে বলে পরিবার মনে করে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ৩ দফা দাবি জানান নিখোঁজ প্রবাসীর মেয়ে রিতা আক্তার। সেগুলো হলো- ১. নিখোঁজ হারুনুর রশীদকে দ্রুত উদ্ধার এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করা। ৩. বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, ইমিগ্রেশন তথ্য এবং মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- চান্দিনার ৩নং মইশাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ভূঁইয়া, মানবাধিকার সংস্থার উপদেষ্টা মাওলানা ফিরোজ আশরাফি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের চিফ কন্ট্রোলার মো. মঈন খান, আবদুল আজিজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি ফখরুল ইসলাম, মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম, মানব কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম রিফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মাসুম আহমেদ প্রমুখ।
