বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: রিজভী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবেরর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন সংবাদ প্রকাশে সতর্ক ও লক্ষ্য রাখবার আহবান জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর)) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবেরর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংবাদিক গিয়াস কামাল একজন দেবতূল্য মানুষ ছিলেন। তার মত অনেকের মধ্যে অদম্য সাহস ও সততা ছিল বলেই ফ্যাসিস্টরা এ দেশে চিরস্থায়ী হতে পারেনি। এ সময় বাহিরের দেশগুলোতে শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো গুণী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে স্মরণ করার অর্থ হলো ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে গুণী লোক, ভালো লোক বা দরকারি লোকদের স্মরণ করার কেউ থাকে না। স্মরণ করা হয় তাদেরকে, যারা সত্যিকার অর্থে ভিলেন—যাদেরকে হিরো বানানোর জন্য নানা আয়োজন করা হয়। সেই দিক থেকে গিয়াস কামালের জন্য কিছু করা মানে ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর অনন্য ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণ করে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, জীবনানন্দ দাসের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে—এ পৃথিবী একবার পায় তাকে, পায় না তো খোয়ার। গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো হয়তো আরও সাংবাদিক আসবে, নতুন নতুন মুখ আসবে; কিন্তু তার মতো এমন ব্যক্তিত্ব আমরা আর কখনো পাব কিনা, আমি জানি না।
মরহুম আনোয়ার জাহিদ, আহমেদ হুমায়ুন, এনায়েতুল্লাহ খান, আকরাম খান ও আবুল কালাম শামসুদ্দিনদের বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ছিলেন ইন্টেলেকচুয়াল সাংবাদিক। তবে গিয়াস কামাল ওই অর্থে বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের সাংবাদিক। মানুষের জন্য, দেশের জন্য তার অন্তরে যে দরদ আমরা দেখেছি, তা আজ আর দেখা যায় না। আক্ষরিক অর্থেই তার মধ্যে মওলানা ভাসানীর একটা ছায়া আমরা সবসময় দেখতে পেয়েছি।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলের পর বেঁচে যাওয়া বা উচ্ছিষ্ট ফলমূল কুড়িয়ে ঝোলা ভরে নেওয়া দেখে অনেকে অবাক হতেন। কিন্তু সেই খাবারগুলো প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাথের হকার ও ফকিরদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে মানুষটির ঝোলা খালি করার সেই মানবীয় রূপ তাকে মুগ্ধ করেছিল। তা ছাড়া মানুষের নানা তদবির নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই মানুষটি সম্পর্কে অনেকে ভুল ধারণাবশত আর্থিক লেনদেনের কথা বললেও, বাস্তবে তিনি নিজের পকেট থেকে রিকশাভাড়া ও খাওয়ার খরচ দিয়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতেন।
সফরের সময় স্মৃতিচারণ করে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, নতুন যমুনা সেতু চালুর ১৫ দিন পর রাজশাহীতে সেমিনারে যাওয়ার পথে এক দুর্বৃত্তকে হাতুড়ি দিয়ে সেতু আঘাত করে ভাঙতে দেখে গাড়ি থামিয়ে তার প্রতিবাদ করেছিলেন গিয়াস কামাল। জাতির ও দেশের সামান্য ক্ষতিও তার দৃষ্টি এড়াতো না।
তার জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলনবিলের কাদার মধ্যে গাড়ি আটকে গেলে তিনি সামান্য দূরে ক্ষেতমজুরদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। ভয়েস অব আমেরিকার সেই চেনা কণ্ঠের সাংবাদিককে চিনতে পেরে খেটে খাওয়া মানুষগুলো লাইন ধরে তাকে কদমবুচি করেছিলেন—যা তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অটুট আস্থার কথা স্মরণ করে কবি আবদুল হাই শিকদার জানান, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে ফেনীতে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় ভয়েস অব আমেরিকা থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেও খালেদা জিয়ার আস্থার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াননি।
যুগান্তর সম্পাদক বলেন, তিনি মুখের ওপর সত্য কথা বলতে কখনো ভয় পেতেন না। আদর্শনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ এমন বিরল দেশপ্রেমিক সাংবাদিক আমাদের সমাজে আজ বড় দুর্লভ।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্যাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মোহা. শেখ সাদী প্রমুখ।


