জলবায়ু সম্মেলনে নতুন অঙ্গীকার চায় নাগরিক সমাজ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিপর্যয় মোকাবিলায় জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘কনফারেন্স অব দ্য কার্টিজ-(কপ) সম্মেলনের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘সবাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও জলবায়ু পরিবর্তনের রূপরেখা সম্মেলনে (ইউএনএফসিসিসি) গণতন্ত্র নেই।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ (সিপিআরডি) ২৫ বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফরম থেকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান শাহীন আনাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ওয়াটারএইডের পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না; বরং এটি আমাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিচ্ছে।
অনেকেই বলেন, আগের সম্মেলনগুলো থেকে বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশ কী পেয়েছে। কিন্তু এখানে সেই বিষয়টি হলো দরকষাকষি কীভাবে হবে। যদি এটি ভালোভাবে করা না যায়, তা হলে আমরা যে প্রত্যাশা করি তা পাব না।
সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭ দেশ এখানে সদস্য। বলা আছে— একটি শব্দ বা সেমিকোলনের যদি কেউ বিরোধিতা করে, তা হলে হবে না। প্রত্যেকবার এমনটি হয়। এটি কেন হলো না? এখন জরুরি অবস্থা, তখন যদি কেউ বিরোধিতা করে তা হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এ জন্য আমি বলি— সবাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও জলবায়ু পরিবর্তনের রূপরেখা সম্মেলনে (ইউএনএফসিসিসি) গণতন্ত্র নেই। একটা বা দুটা দেশ পুরো প্রক্রিয়া জিম্মি করে রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরে মো. শামসুদ্দোহা বলেন, আগামী ৬-১৮ নভেম্বর মিসরের শার্ম আল শেখে ২৭তম জলবায়ু সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
সমঝোতা সম্মেলনটিকে বাস্তবায়নকারী সম্মেলন হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে। সম্মেলন আমাদের সামনে আসা সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে একটি কর্মকৌশল তৈরি করতে হবে।
ফারাহ কবির বলেন, আমরা জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলনের শুরু থেকেই নানা তথ্য, যুক্তি ও বক্তব্য হাজির করেছি। কিন্তু উন্নত বিশ্বকে কোনো কোথা বোঝাতে পারিনি। এ বছরকে (২০২২ সাল) বলা হচ্ছে, সব থেকে বেশি দুর্যোগের বছর।
এই দুর্যোগ আসছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। আমরা আশ্চর্য হই কেন বিশ্বনেতৃবৃন্দের টনক নড়ছে না। অথচ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষের স্থানান্তরিত হচ্ছে ব্যাপক হারে। নিরাপত্তা, অধিকার ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যদি ১০৫ ডিগ্রির মধ্যে উষ্ণায়নকে সীমিত করা না যায়, তা হলে বাঁচার সুযোগ নেই।
শাহীন আনাম বলেন, ‘বড় বড় দেশগুলো যুদ্ধের জন্য বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। অথচ যেটার জন্য টাকা দিলে পৃথিবী বাঁচবে, সেখানে তারা দেবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কিছু করবে না।’
