অবৈধ বালু নিলামের অভিযোগ ইউএনও'র বিরুদ্ধে
Advertisement
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন এখন রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বছর খানেক আগেও যেখানে ১০-১৫টি স্থানে সীমিত আকারে বালু উত্তোলন চলত, সেখানে বর্তমানে শতাধিক পয়েন্টে বালু তোলা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ বালু জব্দ করে নিলামের নামে কোটি টাকার বালু অল্প দামে বিক্রি করছেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মঈন উদ্দিন। এতে সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে এবং ইউএনও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জব্দ করা অবৈধ বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রির প্রক্রিয়া থাকলেও সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কোটি টাকার বালু মাত্র ২ লাখ টাকায় নিলাম দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বাজারমূল্য অনুযায়ী কমপক্ষে ৩০-৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব ছিল।
আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কোটি টাকার বালু জব্দ করা হয়। পরে গোপনে মাত্র ২ লাখ টাকায় নিলাম দিয়ে এক মাসের মধ্যে বালু সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন ইউএনও।
ওই সময় প্রায় দুই হাজার ডাম্পার গাড়ি বালু সরিয়ে নেওয়ার পরও আরও প্রায় সমপরিমাণ বালু অবশিষ্ট ছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলে পুনরায় নিলাম দিয়ে ইউএনও ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত এক বছরে শুধু বালুর নিলাম বাণিজ্যের মাধ্যমে ইউএনও মঈন উদ্দিন কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন চলায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সরই ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বালু উত্তোলনের টাকায় পুলিশ নেয় পুলিশের ভাগ, আর ইউএনও নেয় ইউএনওর ভাগ। অবৈধ উত্তোলনের কারণে রাস্তাঘাট, খাল-বিল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
তারা আরও জানান, সরই ইউনিয়নে কথিত যুবদল নেতা সেলিম ও তার বাবা আহমদ মেম্বার বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ইউএনও অফিসকে ‘ম্যানেজ’ করে নিলাম নিজেদের দখলে রাখেন। তবে সেলিম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অবৈধ বালুর ব্যবসা করি না, শুধু নিলামে বালু কিনি।’
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈন উদ্দিন বলেন, আমি কোনো ধরনের নিলাম বাণিজ্যে জড়িত নই। স্কুলের পাশের বালুর পয়েন্টটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে পরামর্শ করেই ইনস্ট্যান্ট নিলাম দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে ডিসি স্যারের কাছেও। অভিযোগগুলো সঠিক নয়।


