গারো পাহাড়ে বরবটি চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে বরবটি চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। আশার দেখছেন তারা। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফিরেছে হাসি, বদলে যাচ্ছে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র।
এক সময় পাহাড়ের ঢালে পতিত পড়ে থাকা জমিতে এখন ফলছে বরবটি, শিম ও নানা জাতের আগাম শীতকালীন সবজি। কৃষির এ পরিবর্তনে গ্রামীণ অর্থনৈতিক চাকা চাঙ্গা হয়ে উঠছে। সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন ওই এলাকা কৃষক, কৃষি শ্রমিক ও কৃষিপণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।
শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কর্ণজোড়া, মেঘাদল, বাবেলাকোনা, দিঘলাকোনা, চান্দাপাড়া ও হারিয়াকোনা গ্রামের কৃষকরা জানান, বরবটি চারা রোপণের মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন আসে। উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু লাভ অনেক। ফলে অনেক অসচ্ছল কৃষক এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক জোসেফ কোচ বলেন, আগে এই পাহাড়ি জমিতে কিছুই হতো না। এখন প্রতি মৌসুমে বরবটি বিক্রি করে ভালো আয় হয়। ফলে সংসারের সব ধরনের খরচের অনেকটাই এখন এই জমি থেকেই আসে।
প্রতিদিন মেঘাদল বাজারে আসে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ তাজা বরবটি। এখান থেকে শেরপুরের পাশাপাশি ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, চলতি মৌসুমে শ্রীবরদী উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে বরবটি চাষের লক্ষ্য থাকলেও কৃষকদের আগ্রহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হেক্টরে। কৃষকরা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ পেয়ে ভালো ফলন পাচ্ছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা- শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে এ বছর প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে বরবটি ও সিম চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় ফলন ও বাজারমূল্য দুটোই আশানুরূপ।
কৃষিবিদদের মতে, বরবটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি, পাশাপাশি পটাশিয়াম, জিংক ও আয়রন। নিয়মিত বরবটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, শর্করা ও মেদ কমে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
গারো পাহাড়ের যেসব জমি এক সময় অনাবাদি ছিল, আজ সেই জমিই এখন কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বরবটির সবুজে ও অন্যান্য সবজি আবাদে ছেয়ে থাকা পাহাড়ের জমি ফসলে এবং ফলনে ভরে উঠায় কৃষকদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
