সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু
প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ
কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১০ মাস পর সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্বীপে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করা হচ্ছে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে নোঙর করল পর্যটকবাহী জাহাজ। এর মধ্য দিয়ে চলতি পর্যটন মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে সচল হলো সেন্টমার্টিনের নৌপথ। পর্যটকদের আগমনে দ্বীপজুড়ে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এ সময় দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অনেকেই তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া জাহাজঘাট থেকে ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে এমবি বার আউলিয়া নামের জাহাজ। যা দুপুর ১২টা ১০ মিনিটি সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে নোঙর করে। জাহাজের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে জাহাজ থেকে একে একে নেমে আসেন পর্যটকরা।
পরে জেটি ঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিন পশ্চিমের বিচসহ বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টসহ নিজ গন্তব্যে যান। এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেন্টমার্টিনে পর্যটক আগমনের অনুমতি দেওয়ায় সরকার ও স্থানীয় এমপি শাহজাহান চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পর্যটক সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আজ (বৃহস্পতিবার) দ্বীপে পর্যটক আগমনে আমরা দ্বীপবাসীরা খুবই আনন্দিত। কারণ পর্যটকদের সেবা দিয়ে যে আয় হয় তা দিয়েই আমাদের জীবন-জীবিকা চলে।
দ্বীপের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল জানান, পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাটে পৌঁছালে আমরা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সব হোটেল, রিসোর্ট ও জাহাজ মালিকদের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রথম যাত্রায় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস : সকালে নুনিয়াছড়া জাহাজঘাটে ছিল পর্যটকদের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই ছুটেছেন প্রবালদ্বীপে। তবে জাহাজ চলাচল নিয়ে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা, টিকিটের বাড়তি দাম ও নানা ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। প্রথম দিন পরিবার নিয়ে সেন্টমার্টিনে আসেন ঢাকার পর্যটক রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। প্রথম দিনেই আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যদিও জাহাজ ছাড়তে কিছুটা দেরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তরিকুল আহমেদ বলেন, আমরা পাঁচ বন্ধু নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছি। মিরপুরের ব্যবসায়ী কায়সার কামাল বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
টিকিটের দাম বেড়েছে, হয়রানির অভিযোগ : সেন্টমার্টিন যাত্রায় টিকিটের দাম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। ঢাকার পর্যটক হৃদয় বলেন, অনলাইনে টিকিট কেনার পরও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার দাবি, আগে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এবার তা বেড়ে ৪ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। পর্যটক আয়েশা বেগম ও নুর হোসেনও যাত্রার আগে নানা জটিলতার কথা জানান।
তাদের মতে, ভ্রমণের সিদ্ধান্ত, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি ও টিকিটের দাম আগে থেকে নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের এতটা ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, প্রথম দিন এমভি বারো আউলিয়া ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে ছেড়ে গেছে। পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া বাকি দুটি জাহাজও পর্যায়ক্রমে চলাচলে যুক্ত হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
