বাস পোড়ানো মামলায় বৈছাআর ২ নেতার রিমান্ড, ৫ জন কারাগারে
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাস পোড়ানো মামলায় ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআর) দুই নেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকে আদালতে আনা হয়।
রিমান্ড মঞ্জুর দুই নেতা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির ও ‘দ্য রেড জুলাই’ এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্যসচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর ও রাসেল হুসাইন।
আদালতের পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বলেন, হুমায়ন কবির ও আবু হাসনাত তানাইমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি বলেন, গত ৭ মার্চ রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের আসামি করা হয়।
একইদিন আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানায় তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদ। কিন্তু আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে পাম্প কর্মীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বৈষম্যবিরোধী ওই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেন পাম্পের কর্মীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাতে আওয়ামী লীগ নেতার একটি ফিলিং স্টেশনের ভাঙচুর চালায়। একই দিন মধ্যরাতে ঝিনাইদহ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ অগ্নিসংযোগ ও ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। এরপর ওই দিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের আটক করে। পরে তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
