Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ঝালকাঠিতে ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প, ১২০টি কাটার পর স্থগিত

Advertisement

Icon

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ঝালকাঠিতে ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প, ১২০টি কাটার পর স্থগিত

ঝালকাঠিতে ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প, ১২০টি কাটার পর স্থগিত

Advertisement

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর পাড়ে পুরাতন রাস্তার দুই পাশে ৪ কিলোমিটার এলাকায় সম্প্রতি অনুমোদনের পর প্রায় ২ হাজার গাছ কাটতে শুরু করে বন বিভাগ। ঠিকাদারদের মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে অতি মূল্যবান ১২০টি গাছ কেটেছে বন বিভাগ। এর পর তা বন্ধ করা হয়েছে।

প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি লিখে গাছ কাটা বন্ধের অনুরোধ জানান পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির।

তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (HRPB) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতে দেওয়া গাছ কাটার বিষয়ে একটি রায়ের কথা ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনকে জানান।

এরপর গাছ কাটা এখনো চলছে এমন তথ্য জেলা প্রশাসককে  ১২ মার্চ দুপুরে আবারও জানানো হয়। পরে গাছ কাটা বন্ধ করতে জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকারকে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। শুক্রবার ১৩ মার্চ থেকে গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাবখান নদীর পাড়ে ব্লক ফেলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প চলমান। নদীর পাড়েই পুরাতন এবং নতুন দুটি রাস্তা। গাবখান বাজার থেকে বারুহাট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকায় পুরাতন রাস্তাটি থেকে নদীর পানি পর্যন্ত শুকনো পাড় গড়ে ২০ ফুটের (শীতের মৌসুমে) বেশি। কোথাও পাড়ের জায়গা এর চেয়ে দ্বিগুণ। অনেক জায়গায় জিও ব্যাগ পর্যন্ত পাড় ৫০ ফুটেরও বেশি। পাড়ে এতো জায়গা থাকার পরেও উঁচু পুরান রাস্তাটিতেও ব্লক ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া তাদের পরিকল্পনায় আছে পুরান রাস্তার দুই পাড়ে থাকা হাজার-হাজার গাছ কাটার নির্দেশনা। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দেড় বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গাছ কাটতে বলার পরে কয়েক দফা মিটিংয়ের পরে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন। 

সেই অনুযায়ী ৪৭টি লটে ১ হাজার ৮১৫টি গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ চিহ্নিত করে। এর আগে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের কাছে এই কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বন বিভাগ থেকে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, একেক লটে গড়ে ৪০টি করে গাছ রাখা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, একেকটি লটে ৫০টি করে গাছ কাটা হবে। সেই হিসেব মতে অন্তত ২ হাজার ৩৫০টি গাছ কাটা পড়বে।

এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী ও ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, সংখ্যাটি দুই হাজারের বেশি হোক বা প্রায় দুই হাজার হোক- কিন্তু এতো সংখ্যক গাছ কাটার চিন্তা একজন ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় আসে কীভাবে? যেকোনো মূল্যে সামাজিক বনায়ন রক্ষা করতে হবে। ওখানে কমপক্ষে ১০০ প্রজাতির পাখি আছে। সরীসৃপ প্রাণীর মধ্যে বিরল আকারের অসংখ্য গুইসাপ আছে। এই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে কোনোভাবেই এই গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে সবরকম আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

বন বিভাগের নথি অনুযায়ী ১ হাজার ৮শর বেশি গাছের মধ্যে মাত্র ৮০০ গাছের হিসেব বিশ্লেষণ করেই মিলেছে ২৬ প্রজাতির গাছ। যার মধ্যে রয়েছে রাজ কড়াই ২৪, কাঞ্চন ১৬, তুলা ৬৮, অর্জুন ১৮৯, শিশু ৯৭, বাবলা ৭, তেঁতুল ১৩, জারুল ৪৩, কড়ই ১২, জাম ৬, নিম ৩৯, কাঁঠাল ১১, গামার ১২, সেগুন ১৫ ও ২টি উড়িআমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

ইতোমধ্যেই তিনটি স্থানে কেটে ফেলা তিনটি লটের ১২০টি গাছের মধ্যে ছিল রাজ কড়ই, অর্জুন, শিশু, তুলা, নিম ও বাবলাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির গাছ।

বন বিভাগ সূত্রের তথ্য মতে, এই ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটই কাটার ঠিকাদারি পেয়েছিলেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ ৪ জন ঠিকাদার। বাকি ১০টি লট পেয়েছিলেন ঝালকাঠি সদর ও কাঠালিয়ার ৩ জন ঠিকাদার। ১ হাজার ৮১৫টি গাছের বিনিময় মূল্য উঠেছিল ৬০ লাখ টাকা।

ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার জানান, জেলা প্রশাসক স্যার নির্দেশ দেওয়ার পরে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি বলা ছাড়া কেউ একটা ডালও কাটতে পারবে না। গাছের প্রতি বন বিভাগের মায়াই সবচেয়ে বেশি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত দেড় বছর ধরে বলার পরে কমিটিতে পাস করিয়ে এই গাছ কাটতে আমরা বাধ্য হয়েছি। ব্লক ফেললে গাছ এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ সাহেব উচ্চ আদালতের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। গাছ কাটার যখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল তখন এই রায়টি হয়নি। এখন গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। এতো গাছ আর কাটতে দেওয়া হবে না। সামনের মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মনজিল মোরশেদ বলেন, উচ্চ আদালতের রায় আছে- এভাবে এই গাছ কাটতেই পারবে না। পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ কমিটি করে সেই কমিটির নির্দেশনা ছাড়া গাছ কাটা যাবে না।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আ.লীগ নেতার ভবনে এনসিপির কার্যালয়, উদ্বোধন করলেন এমপি মিতু

আ.লীগ নেতার ভবনে এনসিপির কার্যালয়, উদ্বোধন করলেন এমপি মিতু

ঝালকাঠিতে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন

ঝালকাঠিতে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন

মৎস্য অভিযানে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নলছিটির ইউএনওসহ আহত ৯

মৎস্য অভিযানে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নলছিটির ইউএনওসহ আহত ৯

‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই’

‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই’

জুয়ার আসর থেকে আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

জুয়ার আসর থেকে আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে করতে আদালতে হট্টগোল, হুমকি

ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে করতে আদালতে হট্টগোল, হুমকি

আরও পড়ুন

দেড় লাখ টাকাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী আটক, অতঃপর...

দেড় লাখ টাকাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী আটক, অতঃপর...

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম