সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ
জামায়াত কর্মী হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মো. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার বেলা পৌনে ১১টায় সময় সাঁকোয়া গ্রামে পরিবারের সদস্যরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ইমরান আলী অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আসামিরা বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর তাই তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ইমরান আলী বলেন, তার বাবা আলাউদ্দিন উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ, নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর মোহনপুর উপজেলার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। গত ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার সময় মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হলে আলাউদ্দিন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এজাহারভুক্ত আসামিরা তার বুকে আঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ইমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাইসুল ইসলাম রাসেলকে।
অন্য আসামিরা হলেন- ওমর ফারুক, আব্দুল করিম, ইসমাইল হোসেন, মাহাবুর রহমান, কামরুজ্জামান হেনা ও ওয়াহেদ হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আসামিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল সম্প্রতি রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে সংসদ সদস্যকে রিসিভ করে কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় পরিবারটি প্রশ্ন তোলে- যেখানে আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, সেখানে পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না।
নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার ১১ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। পাশাপাশি মামলাটি যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়, সেই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোদাস্বের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিনসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তার কাছে নেই। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
