Logo
Logo
×

সারাদেশ

নাইটগার্ডের নেতৃত্বে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ইলিশ লুট!

Icon

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

নাইটগার্ডের নেতৃত্বে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ইলিশ লুট!

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে খোদ বাজারের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে এক মাছ বেপারীকে জিম্মি করে সাড়ে তিন লাখ টাকার ইলিশ মাছ ও নগদ টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লরেন্স বাজারে গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- লরেন্স বাজার সংলগ্ন কাজীপাড়া এলাকার মৃত লোকমান মিস্ত্রির ছেলে মো. লিটন, তার সহযোগী একই এলাকার মৃত আজাদ উদ্দিনের ছেলে রায়হান ও মৃত ছিদ্দিক উল্লার ছেলে নোমান। অভিযুক্ত তিনজনই স্থানীয় বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার করইতলা এলাকার মাছ বেপারী মফিজ উল্লাহ রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেঘনা নদীর বাত্তিরখাল মাছঘাট থেকে প্রায় ২২০ কেজি বড় সাইজের ইলিশ কেনেন। দুটি ঝুড়িবোঝাই করা এই মাছ সিএনজিযোগে নোয়াখালীর সোনাপুর আড়তে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে লরেন্স বাজার অতিক্রম করার সময় ভোর ৪টার দিকে নাইটগার্ড লিটনের নেতৃত্বে একদল যুবক সিএনজি থামিয়ে বেপারী ও চালককে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় তারা জোরপূর্বক প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ লুট করে নিয়ে যায় এবং বেপারীর সাথে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়।

লরেন্স  বাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি রহমান পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা নাইটগার্ড লিটনের নেতৃত্বে মাছ লুটের বিষয়টি সরাসরি দেখেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে লিটন নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছে।

তিনি আরও বলেন, লিটনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। আমরা জরুরি সভা ডেকে লিটনসহ তিন নাইটগার্ডকে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লরেন্স এলাকায় লিটনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। তারা রাতের আঁধারে এলাকায় ‘মুখোশধারী ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত। সাধারণ নাইটগার্ড হয়েও লিটন প্রতিদিন চা দোকানে বসে হাজার টাকা খরচ করে। এসব টাকা সে কোথায় পায়। এ ধরনের

অস্বাভাবিক হাতখরচ তার অপরাধমূলক আয়েরই প্রমাণ দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মাছ বেপারী মফিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লাভের আশায় ধারদেনা করে মাছগুলো কিনেছিলাম। এখন আমি পুরো পথে বসে গেলাম। আমার সংসার কীভাবে চলবে জানি না।

অভিযুক্ত লিটন ও অপর সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম জানান, বর্তমানে ইলিশ ধরা ও পরিবহণ আইনত দণ্ডনীয়। তবে মাছ লুটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম