জন্মের পরই মাতৃহারা হলো আরও এক শিশু
মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরও এক প্রসূতি মায়ের নাম। জন্মের পরে মাতৃহারা হলো এক শিশু। তার কান্না যেন থামছে না। মায়ের স্পর্শ পেতে খুঁজে ফিরছে তার দুই চোখ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের বহুল আলোচিত শামিমা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই নানা কৌশলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে লাশবাহী গাড়িতে থাকা মরদেহ নিয়ে টানাটানি শুরু হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, সদর উপজেলার বিষয়খালী নৃসিংহপুর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে আসমা খাতুনকে ৩১ মার্চ ক্লিনিকে (শামীমা ক্লিনিক) ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার সিজার করা হয়। পুত্র সন্তানের মা হন আসমা। এরপর বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে আসমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ফের একই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় তাকে।
স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন সন্ধ্যার দিকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আসমা। রাত ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে (লাশ) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বিভ্রান্ত করে। নিজেদের দায় এড়াতেই এমনটি করেন ক্লিনিকের মালিক ডা. শামীমা সুলতানা। সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হলে আসমার মৃত্যু হতো না বলে দাবি করেন স্বজনরা।
আসমার স্বামীর নাম মোজ্জাম্মেল হক। তিনি সুনামগঞ্জে থাকেন। ৪র্থ সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় সিজার অপারেশন করা হয় তার।
অভিযোগ অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক মালিক ডা. শামীমা সুলতানা জানান, ৩১ মার্চ সিজার করার পরে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া তাকে। পরবর্তী সময়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে ফের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসেন ওই রোগী। রাত অনুমান ১১টার দিকে ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার অবশ্যই তদন্ত করা হবে। কিন্তু যাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে তারা কেউ স্টেশনে নেই। প্রশিক্ষণ শেষে স্টেশনে ফিরে আসার পরে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিথিলাকে প্রধান করে তিন সদস্যর কমিটি গঠন তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
