Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা

Icon

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া গ্রামে এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক স্থানীয় সাংবাদিক।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরের দিকে ঘটে যাওয়া এ নৃশংস ঘটনায় নিহত হন কালু বড়ুয়া (৬৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া ওরফে টাবুকে ইতোমধ্যে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো ফুল তুলতে বাড়ির বাইরে বের হন কালু বড়ুয়া। এ সময় এলাকায় আচমকা ভাঙচুর চালাতে দেখা যায় টাম্বু বড়ুয়াকে। তার হাতে ধারাল অস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি জানতে এগিয়ে গেলে কালু বড়ুয়ার ওপর হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনো ধরনের বাগবিতণ্ডা ছাড়াই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর বসে গলায় আঘাত করে গলা কেটে হত্যা করা হয়, যা ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া একটি ছুরি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। 

নিহতের ছেলে অসিম বড়ুয়া দাবি করেছেন, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের পরিবারের পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল না, ফলে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক উচ্ছ্বাস বড়ুয়া। তিনি জানান, লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করলে প্রান্ত বড়ুয়া (ডংগ্লস) ও বাদল বড়ুয়া (বাদু) তার ওপর চড়াও হন। তারা তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, টাম্বু বড়ুয়ার পাশাপাশি প্রান্ত বড়ুয়া ও বাদল বড়ুয়ারও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। 

তাদের মতে, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .