সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, দাফন না করে চলছে ঝাড়ফুঁক
Advertisement
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালের বাবুগঞ্জে সাপেকাটা এক যুবকের মৃত্যুর পর দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোররাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত এইচএম সায়েম (২৩) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কাভার্ডভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকা থেকে তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছালেও ধীরে ধীরে তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুবার এন্টিভেনম দেওয়া হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোররাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে স্বজনরা তাকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্নস্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় উৎসুক জনতা নিহতের বাড়িতে ভিড় করছেন।
নিহতের স্বজন জুয়েল হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেছেন। তবে আমরা আশা ছাড়িনি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে, এই বিশ্বাস থেকেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সাপেকাটা রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এন্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

