শাহজালাল বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে যুবলীগ নেতার মৃত্যু
Advertisement
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
নিহত যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সাগর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুয়েতে অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নুরুল ইসলাম সাগর নামে এক প্রবাসী। তিনি স্থানীয় চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে রাত ১টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
নুরুল ইসলাম সাগরের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায়। তিনি চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি কাজের উদ্দেশ্যে কুয়েত যান; কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেখানে গা-ঢাকা দিয়ে কাজ করতেন। সম্প্রতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি আটক হন এবং প্রায় ১৫ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
স্বজনরা জানান, বিদেশে ভালো জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। রোববার বিকালে জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
মৃতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, রাত ২টার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে তার ছেলে ঢাকার বিমানবন্দরে মারা গেছেন বলে খবর দেয়। পরে তিনি দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসেন।
নুরুল ইসলালের ছোট বোন শেফালী আক্তার আরজু বলেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, হতাশা এবং কারাভোগের কষ্টে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। বাড়িতে এলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি চাপে ছিলেন।
তিনি বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল, তার কোনো রোগ ছিল না। মানসিক দুশ্চিন্তা করে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন।
স্থানীয়রা জানান, সাগর স্থানীয় চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। দেশে ফিরলে হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের আশঙ্কা থেকে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
পরশুরাম থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুয়েত থেকে আসা একটি বিমানে ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরের ভেতরেই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী বিষয়টি পরশুরাম থানাকে জানানো হলে পুলিশ রাতেই পরিবারকে খবর দেয়।

-69e50551e8abe.jpg)