কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী
আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট)
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী রিয়াছাদ রেজভী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমাদের দেশের কৃষকরা সাধারণত কৃষি বিপণন ভেবেই কলাচাষ করে থাকেন। কলাগাছ পরিপক্ব হলে কলা ধরে আর কৃষকরা শুধুমাত্র কলা সংগ্রহ করেন, গাছ নয়। গাছগুলো আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে কেটে ফেলে দেন।
কৃষকরা জানেন না কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা হয় এবং এর মূল্য আছে। একটি কলাগাছ থেকে প্রায় ২শ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গণেশপুরে কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করছেন রেজভী নামের এক যুবক। তিনি ঢাকার গাজীপুর কোনাবাড়িতে অন্যের কোম্পানিতে আড়াই বছর শ্রমিকের কাজ করেন। এ সুযোগে তিনি কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করা আয়ত্ত করেন।
উপজেলার উচিতপুর (খুনারপাড়া) গ্রামের শাহীন আলমের ছেলে রিয়াছাদ রেজভী প্রথমে ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরোনো মেশিন দিয়ে এ কাজ আরম্ভ করেন। ছেলে রেজভীর কর্মক্ষেত্রে বাবা শাহিনসহ ১০-১২ জন শ্রমিকের কাজ করছেন।
রেজভী বলেন, এ কাজে তেমন পুঁজি লাগে না। কারণ কৃষক তাদের জমিতে লাগানো গাছ কেটে শুধু কলা নিয়ে যান; গাছগুলো আবর্জনা ভেবে ফেলে দেন। আমরা পরিত্যক্ত কলাগাছ নিলে কৃষকরা নিষেধ করেন না বরং নিয়ে যেতে বলেন।
পৌরসভার গণেশপুর মহল্লার আব্বাস আলী শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, মাঠে-ঘাটে অন্য কাজের তুলনায় কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির কাজ সহজ ও আরামদায়ক।
উদ্যোক্তা রেজভী জানান, কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক।
তিনি আরও বলেন, কলাগাছের বাকল থেকে সুতা সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন সম্ভব। কৃষকপর্যায়ে বার্মি কম্পোস্টের ব্যাপক চাহিদা আছে। সরকারিভাবে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া গেলে এ কাজটির প্রসার ঘটানো যেত- এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কলাগাছের কাণ্ডে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তন্তু পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল, যা কৃষি বর্জ্যকে মূল্যবান সুতা হিসেবে রূপান্তরের সম্ভাবনা রাখে। কলাতন্তুর সুতা দিয়ে রশি, ব্যাগ, ম্যাট ও পোশাক তৈরি সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশনকে নতুন দিশা দিতে পারে।
