Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

জগন্নাথপুরের হাওড়ে পাকা ধান পানির তলে

Icon

সানোয়ার হাসান সুনু, জগন্নাথপুর থেকে

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ এএম

জগন্নাথপুরের হাওড়ে পাকা ধান পানির তলে

জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়া,মই ও পিংলার হাওড়সহ বিভিন্ন হাওড়ের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

উজান থেকে থেকে আসা পাহাড়ি  ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়া,মই ও পিংলার হাওড়সহ বিভিন্ন হাওড়ের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে মঙ্গলবার হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওড়জুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।    

নলুয়ার হাওড়ের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া বলেন, ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।

জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, পিংলার হাওরে ১০ (৩০ শতকে ১ কেদার) কেদার জমি করেছি। এখন পর্যন্ত ২ কেদার ধান কেটেছি। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটতে পারছিনা। অন্যদিকে হাওড়ে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। 

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টু জানান, নলুয়ার হাওড়ের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। 

মই হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?

একই গ্রামের কৃষক রূপ মিয়া, মোহন মিয়া, ছাবির মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হাওড়ের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছে না। ডুবে গেছে ধান শুকানোর খলা। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন হাওড়পাড়ের মানুষ।   

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওড়ের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে হিমশিম পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করেছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমি হাওড়ে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম