ছাত্র আন্দোলনের কথিত নেতার হাতে প্রধান শিক্ষকের লাঞ্ছিতের ভিডিও ভাইরাল
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ছাত্র আন্দোলনের কথিত নেতার হাতে প্রধান শিক্ষকের লাঞ্ছিতের ভিডিও ভাইরাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপির সঙ্গে এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথিত নেতা শরীফ সরদারের (২৭) অসদাচরণ ও হুমকি প্রদানের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অভিযুক্ত শরীফ সরদার উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য শাজাহান সরদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপি জানান, তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫ম শ্রেণির কক্ষে ক্লাশ নেওয়ার সময় অভিযুক্ত শরীফ বিনা অনুমতিতে হঠাৎ করে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি এক নারীর জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে তাকে চাপ দেন। কিছুটা সময় চাইলেও অভিযুক্ত তা না মেনে দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।
পরে ক্লাশ ম্যানেজ করে স্বাক্ষর করতে বাইরে এসে দেখি, যে কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়, সেটিতে বেশ অসঙ্গতি। সংশ্লিষ্ট নারী সাভারের ভোটার হওয়ায় আমি বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সময় চাই। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হন।
এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে নিবৃত্ত করেন। তারপরও অভিযুক্ত যুবক আমাকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে জোর করে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী, অন্যান্য শিক্ষক ও উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক শরীফ সরদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি শারমিন আক্তার নামে তার এক আত্মীয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রয়োজনে স্বাক্ষর করাতে স্কুলে গিয়েছিলেন; কিন্তু কাগজে ত্রুটি আছে বলে ম্যাডাম কাগজটি সবার সামনে আমার মুখের ওপর ছুড়ে মারেন। যে কারণে আমি রাগান্বিত হয়ে যাই।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি ঘটনা শোনামাত্রই ওই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবক অত্যন্ত জঘন্য আচরণ করেছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের বলতে পারত। আমি ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলে দিয়েছি।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শরীফ সরদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ৬ মাস পর নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মী গ্রেফতার ও কারাভোগ করেছেন।
অপরদিকে গোয়ালন্দে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সজীব শাহরিয়ার জানান, শরীফ সরদারকে গোয়ালন্দ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা কখনো দেখিনি। হঠাৎ ৬ মাস পর তিনি নিজেকে ওই আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার চরম অসদাচরণ ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
