পঞ্চগড়ের তেলখনি বন্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা আজও কাটেনি
এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
পঞ্চগড়ের তেলখনি বন্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা আজও কাটেনি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পঞ্চগড়ের শালবাহান এলাকার জুগিগজ গ্রামে আবিষ্কৃত তেল খনি নিয়ে ধোঁয়াশা আজও কাটছে না। বিবিসিতে ঘটা করে প্রচার করা এ সংবাদটি সেই সময় শালবাহানসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক আশার সঞ্চার করে। পরবর্তীতে হঠাৎ করে এখানে ‘কোনো তেল নেই’ ঘোষণা দিয়ে সেই কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেটিকে চিরস্থায়ীভাবে সিল করে দেওয়া হয়।
আর এতেই শালবাহান তেল খনি নিয়ে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের দানা বেঁধে উঠে। স্থানীয় লোকজন এখনো আশায় বুক বেঁধে আছে- একদিন নিশ্চয়ই শালবাহান তেলখনি পুনরায় খননের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি এই তেলখনি বন্ধের রহস্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। তবে কারো কারো মতে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা সেই সময়কার সরকারের গোপন সমঝোতার কারণে শালবাহান তেলকুপটি চিরতরে সিল করা হয়েছে।
১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ভূতাত্ত্বিক জরিপে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের অনুসন্ধান কার্যক্রমে সে সময় ভারতের একেবারেই সীমান্তঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান জুগিগজ এলাকায় মাটির ৯শ মিটার গভীরে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়।
সেই সময় বিদেশি বিশেষজ্ঞরা শালবাহানে উত্তোলনযোগ্য তেল থাকার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত করে।
এক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ওই সময় তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন এরশাদ সরকার তেলখনি খনন কাজসহ এর উন্নয়নে ৩৫ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করে এবং এ প্রকল্প অনুমোদনও দেওয়া হয়। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে চড়ে তেল খনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেন। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু তেল উৎপাদনের এক সপ্তাহ পর তেলখনির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। কর্তৃপক্ষ অনানুষ্ঠানিকভাবে এখানে তেল নেই কারণ দেখিয়ে ধীরে ধীরে পাততাড়ি গুটিয়ে রাতারাতি যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়। তৎকালীন সময়ে মিডিয়াতে এ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ শেল ওয়েল কোম্পানি পঞ্চগড়ের শালবাহানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তেঁতুলিয়ার শালবাহান এলাকায় একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়। এরপর তেল প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা নিশ্চিত হয়েই কূপ খনন করা হয়।
পরবর্তীতে শালবাহান তেল কূপটিকে শুষ্ক কূপ ঘোষণা করে সেটিকে চিরতরে সিল করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার যৌথ জরিপে এখানে হাইড্রোকার্বনেটের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা বলা হয়; যা থেকেই শালবাহানে তেল প্রাপ্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়।
তবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে শালবাহানের মাটির গভীরে বিপুল পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য ডিজেল বা কেরোসিন মজুত আছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণেই শালবাহান তেলকুপ বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা খুব শিগগিরই এ তেল কূপ খননের দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করব।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহিন খসরু জানান, নতুন করে তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
