হামে আক্রান্ত এক পরিবারের ৩ শিশু, টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি দুজনের
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১২:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাত দিনের মাথায় একই পরিবারের ৩ শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ২ জনের হামের টীকা নেয়ার বয়স হয়নি। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে গাজীপুরের ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে। তাদের মতো আরও ২০ জন শিশু ভর্তি হয় ওই হাসপাতালে। এদের মধ্যে ৩ মাসের শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক হামের রোগীও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলূখোলায় অবস্থিত খ্রিস্টান ট্রাষ্টের পরিচালিত ওই ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় হামে আক্রান্ত শিশুদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যগণের সঙ্গে।
তাদের একজন জানায়, আমরা যৌথ পরিবার। প্রথমে ১০ মাস বয়সী ইরহাম হামে আক্রান্ত হয়, পরে তিন মাস বয়সী আরিয়ান, পরে আক্রান্ত হয় ৯ মাস বয়সী আনাস হামে আক্রান্ত হয়। ৭ দিনর মধ্যে সবাই আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে আমরা বুঝিনি, পরে এই হাসপাতালে আসলে হাম ধরা পড়ে। পরে তাদের তত্বাবধানে আমাদের বাচ্চারা সুস্থ, আজই আমরা রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরব।
আক্রান্ত শিশু আরিয়ানের মা বলেন, আমার সন্তানের বয়স ৯ মাস, টীকা দেওয়ার আগেই জ্বর হয়, পরে জানতে পারলাম হাম হয়েছে। কয়েকদিন ধরে মার্সি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কারও সন্তানের যেন হাম না হয়, সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।
ওই পরিবারে সদস্য আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা ৩ ভাই। প্রত্যেকের বাচ্চাই ছোট। এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই হামে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি আরও অনেক শিশু ভর্তি আছে। আমাদের সবার সচেতন হওয়া জরুরি।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ আফরোজা পারভীন বলেন, আমরা দেখতেই পাচ্ছি হামের রোগী বেড়েছে। তবে কোনো শিশু যদি হামে আক্রান্ত হয় তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি হাসপাতালে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে চলতে হবে। প্রয়োজনে আয়া সঙ্গে নিয়ে শিশুদেরকে সঠিক চিকিৎসা দিতে হবে।
শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা নার্গিস বলেন, হামের পাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আমাদের হাসপাতালেও অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে একটি পরিবারের ৩জন শিশুও রয়েছে। একই পরিবারের ৩ জন আক্রান্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।
একটি শিশু জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে কিছু অ্যান্টিবডি নিয়ে আসে। যা ছয় মাস পর্যন্ত শিশুটিকে সুরক্ষা দেয়। আমাদের হামের টিকা যেহেতু দেওয়া হয় নয় মাসে। মাঝে দুই তিন মাস শিশুর রক্তে কোন এন্টিবডি থাকে না। ফলে এই সময় হাম বেশি হয়।
ডিভাইন মার্সি হাসপাতালের সিইও ড. আহমেদ শফিকুল হায়দার বলেন, পত্রপত্রিকা ও সরকারী হিসাব অনুযায়ী কয়েক শ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল তারা টীকার গুরুত্ব ভালোভাবে দেখেননি, অথবা বোঝেননি। তারা ইউনিসেফের নির্দেশনাও মানেননি, তার কারণে আজকে এই অবস্থা দেখতে হল।
