‘কমপ্লিট শাটডাউন’ উপেক্ষা করে ডুয়েটে ঢুকলেন নতুন ভিসি
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘কমপ্লিট শাটডাউন’ উপেক্ষা করে অবশেষে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষকদের একাংশ ও কর্মচারীদের নিয়ে এক সপ্তাহ পর তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
ডুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ডুয়েট ক্যাম্পাসে নিজ চেয়ারে বসেছেন। এ সময় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ভিসি। বৈঠক শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীরাই ভিসিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান বলে জানান ওই শিক্ষক।
হামলা, মামলা ‘লাল কার্ড ’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির পর মঙ্গলবার বিকালে ডুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ক্যাম্পাসে পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর বুধবার সকালেই একেবারে ফাঁকা হয়ে যায় ক্যাম্পাস। শাটডাউন ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। যাদের বাড়ি অনেক দূরে তারা বুধবার সকালে ক্যাম্পাস থেকে বের হন।
ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা-মামলায় টানা ছয় দিন বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।
এক কথায় ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল ছিল ডুয়েট। নবনিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেয় মঙ্গলবার। ওই দিন বিকালে পুরো ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের একাংশ ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়োগ প্রাপ্তির আট দিনের মাথায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। এ সময় শিক্ষকদের একাংশ ও কর্মচারীরা ভিসির সঙ্গে ছিলেন।
লাল কার্ড ও ব্লকেড কর্মসূচির পর আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন ’ঘোষণা করা হয়।
এ সময় হাসানুর রহমান আরও বলেন, ‘মিথ্যা ট্যাগ ও মামলা দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে; কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে অনড় রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।’
বুধবার বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৫-২০ জনকে নিয়ে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। ডুয়েটের পাশে গাজীপুর উপজেলা পরিষদে এ বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আবার মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ডুয়েট ক্যাম্পাসে ঢুকে নিজ কার্যালয়ে যান ভিসি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিজ কার্যালয়ে আসার পর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।’
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীরা রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে ওই দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং পরদিন শুক্রবার আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
পরে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টাঙিয়ে ‘লাল কার্ড’ এবং পক্ষে-বিপক্ষে ছাত্রদল-ছাত্র শিবির ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা দেওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় ২ হাজার ৫শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
