নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে লাঞ্ছনার অভিযোগ
Advertisement
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
রিতা চাকমা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙামাটির সাজেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, বর্গা (ভাড়াটে) শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনাসহ দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বেহালচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরায় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। তাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন মহলের। সম্প্রতি বিষয়টি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে।
এতে দেখা যায়, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ নানা অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষাব্যবস্থার বেহালচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন স্থানীয় রিতা চাকমা। এতে ক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি। অন্যদিকে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী রিতা চাকমা ভিডিওতে প্রকাশ করেন, বিদ্যালয়টি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়েও এটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে চলছে পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক এবং একজন অস্থায়ী ‘বর্গা’ (ভাড়াটে) শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে পরিচালিত হচ্ছিল বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।
এসব বাস্তবচিত্র তুলে ধরে ভিডিওটি তৈরি করে সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে (রি জাং সি চাকমা) প্রকাশ করেন রিতা চাকমা। এরপর ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছেন, শেয়ার হয়েছে হাজারের বেশি। মন্তব্য করেছেন বহু মানুষ।
এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে রিতা চাকমার ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি হয় বলে জানা যায়। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি।
এ বিষয়ে পরবর্তীতে আরেকটি ভিডিও বার্তায় রিতা চাকমা দাবি করেন, বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও বর্গা শিক্ষকের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হন। এর একপর্যায়ে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তাকে পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ১৬ মে নিজের ফেসবুক পেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রিতা চাকমা।
সাজেক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ার বাসিন্দা রিতা চাকমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি দুর্গম এলাকার অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে বর্গা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। দুর্গমতার কারণে উপজেলা প্রশাসন বা শিক্ষা কর্মকর্তারা সব সময় ঠিকমতো তদারকি করতে পারেন না। আমি ভিডিও প্রকাশ করার পর আশপাশের আরও অনেক গ্রাম থেকে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি কিছুটা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাজেক ইউনিয়নের অনেক বিদ্যালয় অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। বর্গা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আগে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অনুমোদিত চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন রাঙামাটিতে সংযুক্ত রয়েছেন এবং আরেকজন ২০১৯ সাল থেকে একটি মামলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। বর্তমানে বাকি দুইজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২২ সালের পর থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া যে মেয়েটি অভিযোগ তুলেছে, তার সঙ্গে স্থানীয় কিছু মানুষের ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে বলেও শুনেছি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলের মন্তব্যে দেখা গেছে, দুর্গম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবচিত্র তুলে ধরার কারণে একজন নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব মন্তব্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
